পার্টি অফিসে হামলা ভারপ্রাপ্ত ডিজিপির কাছে স্মারকলিপি সিপিএমের

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৪ ফেব্রুয়ারি৷৷ রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বিরোধী দল সিপিআইএম(এর) দলীয় অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও মিথ্যা মামলা রুজু করার ঘটনা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দল৷ সিপিআইএম-এর এক প্রতিনিধি দল সোমবার রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশকের কার্যালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত মহানির্দেশক রাজীব সিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন৷
রাজ্যে বিরোধীদের রাজনৈতিক অধিকার হরনের গভীর ষড়যন্ত্র চলেছে বলে অভিযোগ করেছেন সিপিআইএম নেতৃবৃন্দ৷ দলের এক প্রতিনিধি দল সোমবার রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশকের কার্যালয়ে এসব বিষয় নিয়ে ডেপুটেশন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই অভিযোগ করেন৷

সিপিআইএম-এর বর্ষীয়ান নেতা বিজন ধর অভিযোগ করেছেন ধর্মনগরে সিপিআইএম-এর জেলা অফিসটি এখনও পর্যন্ত ছয়বার আক্রান্ত হয়েছে৷ গতকালও প্রকাশ্য দিবালোকে বিনা প্ররোচনায় সিপিএমের উত্তর জেলার ধর্মনগর জেলা অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে৷ হামলায় পাঁচজন দলীয় কর্মী আহত হয়েছেন৷


শুধু তাই নয়, সিপিআইএম সমর্থকদের বাড়িঘরেও হামলা, হুজ্জুতি চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ৷ উদ্ভুত পরিস্থিতিতে এলাকার বিরোধী দলের নেতা-কর্মী সমর্থকরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন৷ তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে৷ রাজ্য পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত মহানির্দেশকের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ধর্মনগরে একটি পুলিশ পিকেট বসানোর জন্যও দাবি জানানো হয়৷ শুধু তাই নয়, বিরোধীদের মিটিং, মিছিল ও রাজনৈতিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি৷ পরিকল্পিতভাবে বিরোধীদের মিটিং, মিছিলের অনুমতি দিচ্ছে না পুলিশ৷ অথচ শাসক দলকে যে কোন সময় লাঠিসোঁটা নিয়ে মিটিং, মিছিল করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে৷


এ ধরনের দ্বিচারিতা বন্ধ করে বিরোধীদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিও জানানো হয়৷ পাশাপাশি হামলা হুজ্জুতির ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি৷সিপিআইএম-এর অপর বর্ষীয়ান নেতা প্রাক্তন সাংসদ জীতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, এই রাজ্যে বিজেপি আইপিএফটি নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে বিরোধীদের রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলেছে৷ ধর্মনগরে পরপর দলীয় অফিসে হামলা, ভাঙচুর চালানো হচ্ছে৷ বিশালগড়ে সর্বভারতীয় আন্দোলন কর্মসূচিতে পুলিশের সামনে পেট্রোল বোমা মারা হয়েছে৷ পার্টি অফিসে মিটিং চলাকালে দলীয় নেতাকর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন৷ পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি৷ বিরোধীদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার ব্যবস্থা ও রাজনীতির গুন্ডাবাজি বন্ধ করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি৷ শ্রী চৌধুরী আরও বলেন, ধর্মনগরে আইনের শাসন নেই৷ মা-বোনেরাও রেহাই পাচ্ছেন না৷ অসংখ্য এফআইআর করা হয়েছে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ৷


অবিলম্বে ধর্মনগর পার্টি অফিসের সামনে পুলিশ পিকেট বসানোর জন্য তিনি জোরালো দাবি জানিয়েছেন৷ সর্বোপরি রাজ্যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিরোধী দল বৃহত্তর শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শামিল হওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানিয়েছেন৷