নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৬ ফেব্রুয়ারী৷৷ নতুননগরে একটি পরিত্যক্ত পাকা ঘর থেকে রবিবার পুলিশ এক মহিলার অর্ধদগ্দ মৃতদেহ উদ্ধার করেছে৷ মৃত মহিলার নাম অনিমা শীল৷ বাড়ি পার্শ্ববর্তী এলাকাতেই৷ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে৷ এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে৷
এয়ারপোর্ট থানার অন্তর্গত নতুননগর এলাকার বাসিন্দা উত্তম কুমার শীল৷ ওনার স্ত্রী অনিমা শীল ও ছেলে শিবম শীল৷ উত্তম কুমার শীল জেল পুলিশ৷ কর্মসূত্রে তিনি কৈলাসহরে থাকেন৷ শনিবার রাতে অনিমা শীল ছেলে শিবম শিলকে নিয়ে একই বিছানায় ঘুমিয়ে ছিলেন৷ কিন্তু এইদিন সকালে বাড়ির অন্যান্য লোকজন দেখতে পায় অনিমা শিলের ঘরের দরজা খোলা৷ সাথে সাথে বাড়ির লোকজন ঘরে প্রবেশ করে দেখতে পায় শিবম বিছানায় ঘুমিয়ে রয়েছে৷ কিন্তু তার মা সাথে নেই৷ সাথে সাথে বাড়ির লোকজন খোঁজাখুজি শুরু করে৷ বাড়ির লোকজন খোঁজাখুজি করার সময় তাদের নজরে পড়ে বাড়ির অদূরে একটি পরিত্যক্ত ঘরে অগ্ণিদগ্দ অবস্থায় একটি মৃতদেহ পড়ে রয়েছে৷ মৃতদেহ দেখার পর শিবম জানায় এই মৃতদেহটি তার মায়ের হতে পারে৷ মৃতদেহটি কার তা যদিও শনাক্ত করা দায়৷
তবে শিবম নিজেও নিশ্চিত নয় যে এই মৃতদেহ তার মায়ের৷ শুধু মাত্র অগ্ণিদগ্দ মৃতদেহের পা দেখে শিবম অনুমান করেছে এইটা হয়তো তার মায়ের দেহ৷ তবে তার মার কি করে এমন হয়েছে সে কিছুই বলতে পারেনি৷
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এলাকার বিধায়ক দিলিপ দাস, এসডিপিও এনসিসি-র নেতৃত্বে এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ৷ ঘটনাস্থলে আনা হয় ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের৷ পরবর্তী সময় মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়৷ ঘটনাস্থলে ছুটে যান সদর মহকুমার মহকুমা শাসকও৷ এলাকার বিধায়ক ডাক্তার দিলিপ দাস জানান তিনি অগ্ণিদগ্দ মৃতদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছেন৷ এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার হয়েছে৷ তিনি আরও জানান এলাকাবাসিদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ এই ঘরটিতে রাতের অন্ধকারে নানান ধরনের অসামাজিক কাজ চলে৷ তাই তিনি এই পরিত্যক্ত ঘরটি ভেঙ্গে ফেলার জন্য মহকুমা শাসকের নিকট আহ্বান জানান৷
এইদিকে এসডিপিও এনসিসি মাধুরি মজুমদার জানান মৃতদেহের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি৷ ঘটনার তদন্ত চলছে৷ তবে এলাকার নিখোঁজ মহিলা অনিমা শীলের দেহ হতে পারে বলে ছেলে শিবম শীল যে দাবি করেছে তাও হতে পারে বলে জানান তিনি৷ তবে সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি৷ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য বিরাজ করছে৷ সবচেয়ে বড় প্রশ্ণ এই অগ্ণিদগ্দ মৃতদেহটি কার? যদি এলাকার বাসিন্দা অনিমা শীলের মৃতদেহও হয়ে থাকে তবে প্রশ্ণ কেন রাতের অন্ধকারে অনিমা শীল এই পরিত্যক্ত ঘরে গিয়েছিলেন৷ তবে একটা বিষয় অনুমেয় এই মৃতদেহ যদি অনিমে শিলের হয়ে থাকে তবে যে বা যারা অনিমা শিলকে হত্যা করে পুড়িয়েছে, তাদের ভালো করে আগে থেকে চিনতেন তিনি৷
আবার এমনও হতে পারে এই ঘটনার সাথে অনিমা শীলের বাড়ির কোন লোক জড়িত৷ তবে অনিমা শিলের ছেলের বক্তব্য অনুযায়ী তার মা কানের দুল বিছানায় রেখে গেছেন৷ কিন্তু কেন৷ এমন বহু প্রশ্ণ জনমনে দেখা দিয়েছে৷ এই পরিত্যক্ত ঘরে কি তাহলে শনিবার রাতে কোন ধরনের অসামাজিক কাজ হয়েছে৷ যার জেরে এই ঘটনা৷ পুলিশের সঠিক তদন্তে বেরিয়ে আসতে পারে সকল প্রশ্ণের জবাব৷

