৪২৫ জন স্নাতক শিক্ষককে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১১ ফেব্রুয়ারী৷৷ রাজ্য বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তর টেট উত্তীর্ণ ৪২৫ জন শিক্ষককে নিয়োগপত্র দিয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী রতন লাল নাথ৷ মহাকরণে শিক্ষমন্ত্রী এই সংবাদি জানানোর পাশাপাশি মন্ত্রিসভার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত সম্পর্কেও সাংবাদিকদের অবহিত করেন৷
আজ রাজ্য মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে৷ মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মহাকরণের প্রেস কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্য মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত সিদ্ধান্তগুলি তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ৷ তিনি জানান, দুগ্দ উৎপাদনে গ্রামীণ এলাকার মানুষদের স্বয়ম্ভর করে তোলার পাশাপাশি রাজ্যে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি করতে রাজ্য সরকার কামধেনু নামে একটি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করেছে৷ রাজ্য মন্ত্রিসভা আজ এই প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে৷

শিক্ষামন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে ডেয়ারী এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প রয়েছে৷ এই প্রকল্পে গাভী ক্রয় করার জন্য ভারত সরকার ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে থাকে৷ এই ঋণের ক্ষেত্রে সাধারণ ক্যাটাগরীর যারা রয়েছেন তারা ২৫ শতাংশ এবং এস টি, এস সি-রা ৩৩.৩ শতাংশ ভর্তুকী পান৷ তিনি বলেন, দুগ্দ উৎপাদনে আরও বেশি করে উৎসাহিত করার জন্য রাজ্য সরকার ভর্তুকীর পাশাপাশি এই ঋণের ক্ষেত্রে সুুদের টাকা বহন করবে, যতদিন পর্যন্ত তাদের এই ঋণের টাকা পরিশোধ না হয়৷ এই ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের ব্যয় হবে সাড়ে ৪ কোটি টাকা৷ তিনি বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় পরিবারের একজনকে দুটি গাভী দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে যাতে করে সেই পরিবারটি স্বাবলম্বী হতে পারে৷ এই প্রকল্পে একটি পরিবারের জন্য ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হবে৷ যদি ক্যাটেল শেড করে থাকে তাহলে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় হবে তিনি জানান৷ এই গাভীগুলি ক্রয় করার ক্ষেত্রে দুই রকম ব্যবস্থা রয়েছে৷

হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার থেকে গাভীগুলি আনা হবে৷ সুুবিধাভোগীরা সেই জায়গায় গিয়েও গাভীগুলি দেখে কেনার বিষয়ে চূড়ান্ত করতে পারবেন৷ অপর ব্যবস্থাটিতে গোমতী ইউনিয়ন সেখানে গিয়ে গাভী দেখে আসবে এবং রাজ্যে এসে কেনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে শিক্ষামন্ত্রী জানান৷ এছাড়াও মন্ত্রী শ্রীনাথ জানান ত্রিপুরা ল্যাণ্ড রেভেনিউ এণ্ড ল্যাণ্ড রিফর্মস অ্যাক্ট-১৯৬০ যা সর্বশেষ ২০১৩ সালে সংশোধিত হয়েছিল তাতে সংশোধনী আনার জন্য একটি প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় গৃহীত হয়েছে৷ এই প্রস্তাবে টি-টুরিজমকে উন্নত করে রাজ্যের অর্থনৈতিক মানউন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে৷ রাজ্যের চা-বাগানগুলির অব্যবহৃত জায়গায় পর্যটন পরিকাঠামো বৃদ্ধি করে পর্যটকদের আক’ষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হবে৷ তবে এক্ষেত্রে চা-বাগানের মোট আয়তনের ৫ শতাংশ জায়গা টি-টুরিজমের কাজে লাগানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে৷


এক্ষেত্রে সর্বাধিক সীমা ২০ একর পর্যন্ত থাকবে৷ তিনি জানান এটা করা হলে পর্যটন ক্ষেত্রের যেমন উন্নয়ন হবে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানেরও সুুযোগ তৈরি হবে৷ রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে৷ চা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নেও সুুযোগ আসবে৷ মন্ত্রী শ্রীনাথ জানান, বর্তমানে রাজ্যে ৫৪টি চা বাগান রয়েছে৷ এর মধ্যে সরকারী চা বাগান রয়েছে ৩টি, বেসরকারী ৩৯টি এবং সমবায়ের মাধ্যমে চালিত ১২টি৷ এই বাগানগুলিতে ১০৯১৩ জন শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন৷ এই বাগানগুলি থেকে ২০১৯ সালে ৯২ লক্ষ কেজি চা উৎপাদন হয়েছে বলে তিনি জানান৷ ২০১৭ সালে উৎপাদন ছিল ৮৭ লক্ষ ৩০ হাজার কেজি৷ এছাড়াও শিক্ষামন্ত্রী শ্রীনাথ জানান, ৪২৫ জন স্নাতক শিক্ষককে ৩৬২টি সুকলে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে৷ পোস্ট গ্রেজয়েট টিচার পদে ৭ জনকে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে৷ তাদেরকে চলতি মাসের ২০ তারিখের মধ্যে কাজে যোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে৷ তিনি জানান, স্নাতক শিক্ষকদের মধ্যে ধলাই জেলায় ৭০টি সুকলে ৭৯ জনকে, দক্ষিণ জেলার ৭৫টি সুকলে ৮৬ জনকে, গোমতী জেলায় ৬৫টি সুকলে ৮৭ জনকে, ঊনকোটি জেলার ৩১টি সুকলে ৩৩ জনকে, সিপাহীজলা জেলায় ৩০টি সুকলে ৪১ জনকে, খোয়াই জেলার ৪০টি সুকলে ৪৫ জনকে এবং পশ্চিম জেলায় ১টি সুকলে ১ জনকে (যিনি দিব্যাঙ্গ) এই পোস্টিং দেওয়া হয়েছে৷ পি জি টির ক্ষেত্রে ধলাই জেলায় ২ জনকে, দক্ষিণ জেলায় ৩ জনকে, ঊনকোটি ও খোয়াই জেলায় ১ জন করে শিক্ষককে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে৷

জি টিতে ১০ জন ও পি জি টিতে ১ জনের বিরুদ্ধে ফেইক (ভূয়ো) সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার বিষয়টি দপ্তরের নজরে এসেছে৷ তাদের বিরুদ্ধে এফ আই আর করা হবে৷ এছাড়াও ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ার কারণে ১২ জন জি টি এবং ১ জন পি জি টি’র পোস্টিং দেওয়া যায়নি৷ প্রক্রিয়া শেষে সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে৷ ১ জন জি টি যিনি বর্তমানে এডহক শিক্ষক হিসাবে কর্মরত রয়েছেন উনার ক্ষেত্রে বয়সের রিল্যাে’শনের বিষয়টি রয়েছে৷ এক্ষেত্রে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন নিতে হবে বলে তিনি জানান৷ তিনি বলেন, শিক্ষা সরকারের অগ্রাধিকারের ক্ষেত্র৷ শিক্ষাব্যবস্থাকে উন্নততর পর্যায়ে নিয়ে যেতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে৷ নবনিযুক্ত এই শিক্ষকদের পোস্টিং এর ক্ষেত্রে যেসব সুকলে শিক্ষক শিক্ষিকার স্বল্পতা রয়েছে সেখানে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রী শ্রীনাথ জানান৷