সিএএ বিরোধিতায় কেন্দ্রকে তোপ জিএমপির

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৮ ফেব্রুয়ারী৷৷ দেশের কোটি কোটি মানুষ খেতে পারছেন না৷ অথচ বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সংখ্যালঘুদের জন্য বুক ফেটে যাচ্ছে৷ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতা করতে গিয়ে এভাবেই আজ কেন্দ্রীয় সরকারকে বিঁধলেন ত্রিপুরা উপজাতি গণমুক্তি পরিষদের (জিএমপি) সভাপতি জিতেন্দ্র চৌধুরী৷ ১৮ দফা দাবির ভিত্তিতে শনিবার সিপিআইএম-এর জনজাতিভিত্তিক সংগঠন গণমুক্তি পরিষদ আগরতলায় মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেছিল৷ সভার মঞ্চ থেকে জিতেন্দ্র চৌধুরী সুর চড়িয়ে বলেন, ২৩ মাস ধরে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজ্যে সরকার পরিচালনার জন্য বিজেপি-আইপিএফটি জোটকেও সাবধান করছি৷ মানুষকে বোকা ভাববেন না, জনতার আদালতে আপনাদের বিচার হবেই, কটাক্ষ করে বলেন তিনি৷


আজ জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, দেশের জওয়ানদের রক্তের বিনিময়ে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ ক্ষমতায় ফিরেছেন৷ নোটবন্দি, জিএসটি দেশের বহু মানুষের স্বপ্ণ তিলে তিলে ধবংস করেছে৷ তাই পুনরায় সুযোগ পেয়ে ভুল শুধরে নেওয়ার কর্মসূচি নেবে বলে ধারণা করেছিলাম৷ কিন্তু, মানুষ আজ হতাশ৷
তাঁর কথায়, দেশের কোটি কোটি যুবক বেকার হয়ে ঘুরছেন৷ গড়ে প্রতি ২৮ মিনিটে একজন কৃষক আত্মহত্যা করছেন৷ অপুষ্টিতে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে৷ কৃষকরা দেনার দায়ে জমি হারাচ্ছেন৷ তাঁদের জন্য ভাবছে না কেন্দ্রীয় সরকার৷ অথচ বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সংখ্যালঘুদের জন্য তাঁদের বুক ফেটে যাচ্ছে, কটাক্ষ করে বলেন তিনি৷


তাঁর দাবি, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন সারা বিশ্বে নিন্দিত৷ কিন্তু, এই দেশের সরকারের এ-নিয়ে কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই৷ সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, ১০০ দিনের অধিক সময় ধরে শাহিনবাগে মহিলারা এই আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন৷ আইন প্রত্যাহার না হলে সারা দেশ শাহিনবাগে পরিণত হবে৷ তিনি জোর গলায় বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন কার্যকর হতে দেব না৷


এদিন তিনি ত্রিপুরায় বিজেপি-আইপিএফটি জোটকেও কড়া ভাষায় সমালোচনায় বিদ্ধ করেছেন৷ তিনি বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরোধিতায় আন্দোলনে দশদা-কাঞ্চনপুরে দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে৷ মনুঘাটে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কলা লুটে নিয়ে গেছে৷ তাঁর দাবি, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতা পাহাড়ি-বাঙালি লড়াই নয়৷ কিন্তু, এই আইনের বিরোধিতার নামে একাংশকে লেলিয়ে দিয়ে ত্রিপুরায় অস্থিরতা কায়েম করা হচ্ছে, ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন তিনি৷


আজ জিতেন্দ্র চৌধুরী বিজেপি-আইপিএফটি জোটকে নিশানা করে বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে না পেরে মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ তৈরি করছে ত্রিপুরার শাসক দল৷ চাকরি নিয়ে বসে আছেন, অথচ যোগ্য লোক পাচ্ছেন না বলে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব বেকারদের আত্মসম্মানে আঘাত করছেন৷ তিনি সুর চড়িয়ে বলেন, কেন্দ্রের দেখানো পথে বিভাজনের রাস্তা ধরে ত্রিপুরাকে ধবংসের কিনারায় ঠেলে দিচ্ছে বিজেপি৷


তিনি বলেন, বিপ্লব সরকারকে গত ২৩ মাস ধরে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়ার জন্য সাবধান করতে এসেছি৷ আজকের মিছিলকে খাটো করে না দেখার পরামর্শ দিচ্ছি৷ তিনি বলেন, সময় আসছে, জনতার আদালতে সমস্ত অন্যায়ের বিচার হবে৷ মুষ্টিমেয় সমাজবিরোধী গুণ্ডাদের সহায়তায় পালিয়ে বাঁচতে পারবেন না৷ তাঁর দাবি, জাতি বিদ্বেষ ছড়িয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়৷ সুস্থ গঠনমূলক প্রতিযোগিতায় রাজ্যকে এগিয়ে নিতে হবে৷ তাঁর পরামর্শ, সাম্প্রদায়িক চিন্তাভাবনা পরিহার করুন৷ সাম্প্রদায়িক সৌহাদর্ে্যর মধ্য দিয়ে ত্রিপুরার অগ্রগতির শপথ নিন৷