সাফল্যের মূলমন্ত্র হল নিয়মানুবর্তিতা, দৃঢ়তা আর সংকল্প : মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৪ সেপ্ঢেম্বর৷৷ সাফল্যের মূলমন্ত্র হল নিয়মানুবর্তিতা, দৃঢ়তা আর সংকল্প৷ এই ভাবধারায় জীবনধারাকে চালিত করতে পারলে সাফল্য আসবেই৷ এই আদর্শ নিয়েই কাজ করছে এনএসএস৷ আজ আগরতলা টাউন হলে এনএসএস এর স্বর্ণজয়ন্তী বর্ষ উদযাপন ও দুদিন ব্যাপী ষষ্ঠ রাজ্য ভিত্তিক এনএসএস এর উৎসবের উদ্বোধন করে এই কথাগুলি বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ তিনি বলেন কোন ব্যক্তিকে সফল হতে গেলে, অবশ্যই তাকে শৃঙ্খলাপরায়ন হতে হবে৷ তিনি কোন ক্ষেত্রে কাজ করছেন সেটা মুখ্য বিষয় নয়৷ নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে থেকে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এগিয়ে গেলে যে কোন ক্ষেত্র থেকেই ব্যক্তি সাফল্য পেতে পারেন৷ শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হিসাবে নিজেকে তুলে ধরতে পারেন৷ দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর অন্যতম নিদর্শন৷ নিয়মানুবর্তিতা দৃঢ়তা ার কাজ করার সংকল্পকে আদর্শ করে দেশকে সর্বক্ষেত্রে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে তিনি অবিচল৷ দেশের অর্থনীতিতে যেমন তাঁর সূদুর প্রসারী চিন্তাধারা প্রতিফলিত হচ্ছে, তেমনি পরিবেশ রক্ষায়ও তিনি অগ্রনী ভূমিকা নিচ্ছেন৷ কর্পোরেট সেক্টরে করছাড়া দেওয়ায় দেশে আর্থিক লগ্ণি বৃদ্ধি পাবে৷ এতে অর্থনীতি মজবুত হবে৷ দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রকে তিনি যে জায়গায় নিয়ে যেতে চাইছেন তা অধিকতর সহজ হবে৷ দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রকে তিনি যে জায়গায় নিয়ে যেতে চাইছেন তা অধিকতর সহজ হবে৷ তিনি বলেন, এন এস এস সেবামূলক মানসিকতা নিয়ে সমাজের জন্য কাজ করছে৷ মুখ্যমন্ত্রী তার বক্তব্য রাখার সময় সুকান্ত সরকার নামক একজন এনএসএস স্বেচ্ছাসেবককে অভিনন্দন জানান, যিনি ৩৯ বছর বন্ডহয়সে ৬৪ বার রক্তদান করেছেন৷ সুকান্ত সরকারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এনএসএস স্বেচ্ছাসেবকদের সামাজিক কাজে অনুপ্রাণিত করেন৷


মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ দূষণ রোধ করতে প্রধানমন্ত্রী, ‘একবারের জন্য ব্যবহৃত প্লাস্টিক থেকে ভারতকে মুক্ত করতে চাইছেন৷ রাজ্যেও প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানকে সামনে রেখে একবারের জন্য ব্যবহৃত প্লাস্টিক মুক্ত করার সংকল্প নিতে হবে৷ রাজ্যকে সার্বিক দিক দিয়ে উন্নয়নের শীর্ষে নিয়ে যেতে অঙ্গিকারবদ্ধ হয়ে কাজ করছে সরকার৷ তিনি বলেন উন্নয়ন শুধুমাত্র শহরকেন্দ্রীক হবে এমন নয়, শহরের পাশাপাশি গ্রামস্তরের ব্যাপক উন্নয়নেও গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার৷ জনজাতিদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে৷ জনজাতি অধ্যুষিত ১২টি ব্লকসে অ্যাসপিরেশনাল ব্লক হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে৷ এই ১২টি ব্লকের উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া হবে যেন ঐ ব্লকগুলি তিনবছরের মধ্যে অন্যান্য ব্লকের সমপর্যায়ে পৌঁছতে পারে৷ তিনবছরে এই ১২টি ব্লকের উন্নয়নে ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে৷ তিনি বলেন সরকার প্রতিটি পরিবারের জন্যই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাইছে৷ স্ব-উদ্যোগীদের বিভিন্ন ভাবে সহায়তা করা হচ্ছে৷ আগারতলা শহরকে আধুনিকতম শহর হিসাবে গড়ে তোলার জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে৷ বহুতল বিশিষ্ট ফ্ল্যাট নির্মাণের জন্য সরকার নির্মাণক্ষেত্রে নিয়মনীতি সংশোধন করেছে৷ ত্রিপুরা আরবান ডেভেলপমেন্ট অথরিটির মাধ্যমে বহুতলবিশিষ্ট ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে৷

নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য লাইট হাউস নির্মানেও সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে৷ আইটিহাব, চক্ষু হাসপাতাল, শিশুদের জন্য আলাদা হাসপাতাল, ফাইভ স্টার হোটেল ইত্যাদি আধুনিকতম পরিকাঠামোর ত্রিপুরাকে নতুনভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার৷ মুখ্যমন্ত্রী এনএসএস-এর স্বর্ণজয়ন্তী ও রাজ্যভিত্তিক উৎসব উপলক্ষ্যে প্রকাশিত স্মরণিকা ‘সেবা’এর মলাট উন্মোচন করেন৷ অনুষ্ঠানে যুববিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রী মনোজকান্তি দেব বলেন, সমাজসেবার মধ্যদিয়ে ছাত্র, যুবক-যুবতীদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য এনএসএস’র প্রতিষ্ঠা হয়েছিল৷ জাতির জনক মহাত্মা গান্ধির স্বপ্ণকে বাস্তবায়িত করার জন্য তাঁর জন্মশত বর্ষে ১৯৬৯ সালে ২৪ সেপ্ঢেম্বর এই জাতীয় সেবা প্রকল্পের সূচনা হয়৷ এর উদ্দেশ্য ছিল ১৯০ বছরের দীর্ঘ ইংরেজ শাসনে ক্ষতবিক্ষত ভরতকে পুনরায় নির্মান করা এবং সমাজের জ্বলন্ত সমস্যাগুলি সমাধান করা৷ বর্তমান দেশের ৩০০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চবিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা সংসদের অধীনে ৩৯ লক্ষাধিক স্বেচ্ছাসেবী রয়েছেন৷ তারা সেবামূলক কাজে নিয়োজিত রয়েছেন৷ ত্রিপুরায় এনএসএস এর বিভিন্ন সামাজিক কাজের কথা উল্লেখ করে তিনি এর প্রশংসা করেন৷ তিনি বলেন এনএসএস স্বেচ্ছাসেবকের সেবামূলক মানসিকতা রয়েছে৷ স্বেচ্ছাসেবকদের তিনি প্লাস্টিকমুক্ত ও নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়ার আহ্বান জানান৷ শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা গড়ে তোলার জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের তিনি নিয়মিতভাবে সেবামূলক কাজে নিয়োজিত রাখার আহ্বান জানান৷


অনুষ্ঠানে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন এনএসএস এর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আঞ্চলিক অধিকর্তা দীপক কুমার৷ স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনএসএস এর স্টেট নোডাল অফিসার ড. চিত্রজিৎ ভৌমিক৷ অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক দপ্তরের সচিব ড. দেবাশিস বসুও উপস্থিত ছিলেন৷ অনুষ্ঠানে সেবামূলক কাজে বিশেষ অবদানের জন্য ৭ জন এনএসএস প্রোগ্রাম অফিসার ও তৎসঙ্গে ৭টি এনএসএস ইউনিট, ২৫ জন এনএসএস স্বেচ্ছাসেবক, বিশেষ সেবামূলক কাজে উৎকর্ষতার জন্য ওপেন এনএসএস এর প্রোগ্রাম অফিসলার ও অপর একজনকে পুরষ্কার প্রদান করা হয়৷ মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য অতিথিরা তাদের হাতে স্মারক তুলে দেন৷ দুদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানে সাংসৃকতিক অনুষ্ঠান, মত বিনিময় আলোচনা, সচেতনতামূলক আলোচনাসভা ইত্যাদি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে৷