অবশেষে রাজকোষে জমা পড়ল বাজেয়াপ্তকৃত ২৫ লক্ষাধিক টাকা

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১২ সেপ্ঢেম্বর৷৷ অবশেষে চুড়াইবাড়ি থানার রুটিন তল্লাশিতে উদ্ধার ২৫ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকা জমা পরল সরকারি কোষাগারে৷বেশ কয়েক বছর পর চুড়াইবাড়ি থানার পুলিশ এমন বৃহৎ পরিমাণ অবৈধ অর্থ উদ্ধার করে সরকারি কোষাগারে জমা করলো৷ তবে চুড়াইবাড়ি থানার ওসি জয়ন্ত দাস এবং সেকেন্ড ওসি সাধন মজুমদারের তৎপরতায় ও কৌশলের কারণে চুড়াইবাড়ি থানার সামনের নাকা পয়েন্টে জোর কদমে চলছে তল্লাশি অভিযান৷আর এই তল্লাশি অভিযানের ফলেই বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভাবে রাজ্যে নিয়ে আসা অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা পরলো৷


ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, গত ২২ আগস্ট সন্ধ্যাবেলা প্রতিদিনের মত উত্তরের চুড়াইবাড়ি থানার সাম্মুখে ত্রিপুরা অসম সীমান্তে ৮ নং জাতীয় সড়কের উপর থানার নাকা পয়েন্ট তল্লাশি চলাকালীন সময় ঙ্ছ১০/৩৯৫২ নম্বরের একটি ওয়াগনার গাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ৷ওয়াগনার গাড়িতে থাকা এক যাত্রীর কাছ থেকে ২৫ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকা উদ্ধার করে চুড়াইবাড়ি থানার পুলিশ৷সাথে আটক করা হয় আসিস পাল (৪১) পিতা আশুতোষ পাল নামের যাত্রীকে৷ধৃত ব্যক্তির ঘর উত্তর জেলার ধর্মনগরের রাধাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ নং ওয়ার্ডে৷ বিপুল পরিমাণ অর্থ সহ ধৃত ব্যক্তিকে চুড়াইবাড়ি থানার পুলিশ দফায় দফায় জেরা চালায়৷


পুলিশি জেরায় ধৃত আসিস পাল জানায় ওই অর্থ গুলি নিয়ে করিমগঞ্জ গিয়েছিল নিজের দোকানের মাল সামগ্রী কিনে আনার জন্য৷কিন্তু করিমগঞ্জে তার মাহাজনকে না পাওয়াতে সে পুনরায় ওই টাকাগুলো নিয়ে নিজ বাড়িতে আসছিল৷কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ অর্থের কোন ধরনের তথ্য প্রমাণ দেখাতে পারেনি যে ওই টাকাগুলি তার বৈধ টাকা৷২৫ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকার মধ্যে ২০০০ টাকার নোটের ২০ লক্ষ টাকা এবং ৫০০ টাকার নোটের ৫ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকা ছিল৷ পাশাপাশি চুড়াইবাড়ি থানার পুলিশ ঙ্ছ১০/৩৯৫২ নম্বরের ওয়াগনার ও চালক সঞ্জয় নমঃশূদ্র কে কিছুটা সময় থানায় আটকে রেখে যুগ-জিজ্ঞাসা চালিয়ে জানতে পারেন যে শুধুমাত্র ওই গাড়ি দিয়ে ১১০০ টাকা ভাড়ার বিনিময়ে করিমগঞ্জ থেকে ধর্মনগর আসছিল ধৃত ওই ব্যক্তি৷তার পরিপ্রেক্ষিতে গাড়ি ও গাড়িচালকে রাতেই ছেড়ে দেয় চুড়াইবাড়ি থানার পুলিশ৷


এদিকে চুড়াইবাড়ি থানার ওসি ধৃত ব্যক্তিকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চালান৷এমনকি ঘটনার খবর পেয়ে মহকুমা পুলিশ আধিকারিক রাজীব সূত্রধর চুড়াইবাড়ি থানা এসেও দফায় দফায় জেরা চালান ধৃত ব্যক্তি আশিস পালকে৷কিন্তু কোনভাবেই ধৃত ব্যক্তি ২৫ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকা বৈধতার কোন প্রমান দেখাতে পারেন৷ অবশেষে চুড়াইবাড়ি থানার ওসি বিপুল পরিমাণ অর্থ ২৫ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকা ধর্মনগর ইনকাম ট্যাক্স অফিসে জমা করে দেন৷পাশাপাশি ধৃত আশিস পালকে শর্তসাপেক্ষে ছেড়ে দেওয়া হয়৷


অপরদিকে চুরাইবাড়ি থানার ওসি জানান, উনারা তদন্ত করে দেখেছেন যে,২৫ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকা আশীষ পালের বৈধ টাকা নয়৷ তাই উনারা আসিস পালকে শর্তসাপেক্ষে ছেড়ে দিয়ে ওই বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারি কোষাগারে অর্থাৎ ধর্মনগর ইনকাম ট্যাক্স অফিসে জমা দিয়ে দেন৷ উনি আরো জানান চুড়াইবাড়ি থানার সামনে যে নাকা পয়েন্টে রয়েছে সেখানে প্রতিনিয়ত তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আগামী দিনেও এধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে৷
তবে চুরাইবাড়ি থানার তল্লাশিতে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধারে চুরাইবারি থানার পুলিশকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মহল৷