গুয়াহাটি, ১১ আগস্ট, (হি.স.) : বিজেপি-শাসিত উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদ ভঙ্গ করে রাজ্যপালকে এর দখল নেওয়ার পাশাপাশি দলের দুই নেতার ‘খুনি’ মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য (সিইএম) দেবোলাল গারলোসাকে শিগগির গ্রেফতারের দাবি তুলেছে প্রদেশ কংগ্রেস। এদিকে একই দাবির ভিত্তিতে আগামী ১৩ আগস্ট ১০ ঘণ্টার ডিমা হাসাও জেলা বনধের ডাক দিয়েছে কংগ্রেসের ডিমা হাসাও জেলা কমিটি।
দেবোলাল গারলোসাকে সিইএম-এর পদ থেকে অপসারণের দাবি নিয়ে আজ শনিবার রাজ্যপাল অধ্যাপক জগদীশ মুখির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে প্ৰদেশ কংগ্ৰেসের শীর্ষ এক প্রতিনিধি দল। প্ৰদেশ কংগ্ৰেসের নেতা শৈলেন বরা, প্রাক্তন মন্ত্রী শরৎ বরকটকি, বলীন কুলি, রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলপতি দেবব্ৰত শইকিয়া রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের দাবির ভিত্তিতে নানা যুক্তি তুলে ধরেছেন। রাজ্যপালকে তাঁরা বলেছেন, ২০০৭ সালে সংঘটিত দু-দুটি হত্যাকাণ্ড মামলার অন্যতম অভিযুক্ত উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের বৰ্তমান মুখ্য কাৰ্যনির্বাহী সদস্য তথা জঙ্গি সংগঠন ডিএইচডি (জে)-র তদানীন্তন শীর্ষ নেতা উপ-মুখ্য সেনাধ্যক্ষ দেবোলাল গারলোসা। তাঁরা রাজ্যপালকে জানান, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী গোবিন্দচন্দ্র লাংথাসার পুত্র পার্বত্য পরিষদের তদানীন্তন মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য (সিইএম) পূর্ণেন্দু লাংথাসা এবং কার্যনির্বাহী সদস্য (ইএম) নিন্দু লাংথাসাকে ২০০৭ সালে বর্তমান সিইএম দেবোলাল গারলোসা ওরফে ডেনিয়েল ডিমাসা খুন করেছিলেন বলে সম্প্রতি ২৭ জুলাই ডিমা হাসাও জেলা ও দায়রা আদালতে এক বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি দিয়েছে তাঁরই এককালের সতীর্থ ডিএইচডি (জে) জঙ্গি গোষ্ঠীর প্রাক্তন সদস্য ডেভিড কেম্প্রাই ওরফে মুপিত রাইজুং ওরফে অ্যাকশন ডিমাসা। ওই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তির পর সিইএম-এর মতো পবিত্র গদিতে বসে থাকার অধিকার হারিয়েছেন দেবোলাল গারলোসা। তাই শিগগির পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদ ভঙ্গ করে এর দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পাশাপাশি গারলোসাকে শীঘ্র গ্রেফতার করতে রাজ্যপালকে অনুরোধ জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতারা।
এদিকে একই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১৩ আগস্ট ১০ ঘণ্টার ডিমা হাসাও জেলা বনধের ডাক দিয়েছে ডিমা হাসাও জেলা কংগ্রেস।