হাফলং (অসম), ১০ আগস্ট (হি.স.) : দু-দুটি খুনের দায়ে অভিযুক্ত উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য (সিইএম) দেবোলাল গারলোসাকে শিগগির গ্রেফতার করার দাবি তুলেছে ডিমা হাসাও জেলা কংগ্রেস। পাশাপাশি উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদ ভঙ্গ করে রাজ্যপালকে এর দখল নেওয়ার দাবিও তুলেছে দল। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী গোবিন্দচন্দ্র লাংথাসার পুত্র পার্বত্য পরিষদের তদানীন্তন মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য (সিইএম) পূর্ণেন্দু লাংথাসা এবং কার্যনির্বাহী সদস্য (ইএম) নিন্দু লাংথাসাকে ২০০৭ সালে বর্তমান সিইএম দেবোলাল গারলোসা ওরফে ডেনিয়েল ডিমাসা খুন করেছিলেন বলে সম্প্রতি ডিমা হাসাও জেলা ও দায়রা আদালতে এক বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি দিয়েছিল তাঁরই এককালের সতীর্থ ডিএইচডি (জে) জঙ্গি গোষ্ঠীর প্রাক্তন সদস্য ডেভিড কেম্প্রাই ওরফে রাইজুং ওরফে অ্যাকশন ডিমাসা।
আদালতে অ্যাকশন ডিমাসার বিস্ফোরক স্বীকারোক্তির পর রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। আজ জেলা কংগ্রেস সদর দফতরে সাংবাদিক সম্মেলন করে দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক কালিজয় সেংগুইং বলেন, একজন জঙ্গি তথা বহু খুনে অভিযুক্ত দেবোলাল গারলোসাকে সিইএম-এর মতো পদে থাকার কোনও অধিকার নেই। তাঁকে শিগগির গ্রেফতার করতে হবে। পাশাপাশি উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদ ভঙ্গ করে এর দখল নিন রাজ্যপাল। কালিজয় বলেন, একজন খুনের আসামিকে রক্ষণাবেক্ষণ দিচ্ছে বিজেপি। যদি তা না-হয়, তা হলে দেবোলাল গারলোসাকে গ্রেফতার করে নিজের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি প্রমাণ করুন মুখ্যমন্ত্রী তথা গৃহ দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল।
রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী গোবিন্দচন্দ্র লাংথাসার পুত্র পূর্ণেন্দু লাংথাসা এবং পার্বত্য পরিষদের তৎকালীন ইএম নিন্দু লাংথাসাকে ২০০৭ সালে খুন করেছিলেন উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের বর্তমান সিইএম দেবোলাল গারলোসা ওরফে ডেনিয়েল ডিমাসা। হাফলঙে ডিমা হাসাও জেলা ও দায়রা আদালতে প্রাক্তন জঙ্গির চাঞ্চল্যকর বিস্ফোরক স্বীকারোক্তির পর বিজেপি-শাসিত উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদ ভঙ্গ করতে আদাজল খেয়ে নেমেছে কংগ্রেস। এই ইস্যুকে কংগ্রেস পরিষদ নির্বাচনে প্রধান হাতিয়ার করবে, আজ কালিজয় সেংগুইঙের বক্তব্যে পরিষ্কার হয়ে গেছে।
রাজসাক্ষী হিসেবে গত ২৭ জুলাই হাফলঙে ডিমা হাসাও জেলা ও দায়রা আদালতে ১৮/০৮ মামলার শুনানি পর্বে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে প্রাক্তন জঙ্গি ডেভিড কেম্প্রাই আদালতকে জানায়, ২০০৭ সালের ৪ জুন পূর্ণেন্দু এবং নিন্দু লাংথাসাকে লাংলাই হাসনুতে খুন করা হয়েছিল। আদালতে ডেভিড বলেন, একসময় ডিএইচডি (জে)-র শীর্ষ সদস্য দেবোলাল ওরফে ডেনিয়েল ডিমাসা বর্তমানে উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের সিইএম ক্ষমতাসীন বিজেপি-র সদস্য দেবোলাল গারলোসাই নিন্দু লাংথাসাকে ২০০৭ সালের ৪ জুন নিজের হাতে খুন করেছিলেন। সে আরও বলে, এই দেবোলালের নির্দেশেই একই দিনে পূর্ণেন্দু লাংথাসাকে (প্রাক্তন মন্ত্রী গোবিন্দচন্দ্র লাংথাসার ছেলে) খুন করেছিল ডিএইচডি (জে)-র অন্য এক সদস্য গেলামলাই।
আদালতে এই স্বীকারোক্তি দিয়ে ডেভিড কেম্প্রাই বলে, ডিএইচডি (জে) জঙ্গি সংগঠনের দাবি অনুযায়ী দুই (২) কোটি টাকা দিতে না পারায় প্রাক্তন মন্ত্রী প্রয়াত গোবিন্দচন্দ্র লাংথাসার পুত্র পূর্ণেন্দুকে খুন করা হয়েছিল। সেই সময় সে (ডেভিড কেম্প্রাই) বিভিন্ন জঙ্গি-অভিযানে দেবোলাল গারলোসার সঙ্গে থাকত। তাই সব সশস্ত্র অভিযান দেবোলালের প্রত্যক্ষ নির্দেশেই পরিচালিত হত তা তার চেয়ে আর কেউ ভালো বলতে পারবে না। আদালতে সরকারি সাক্ষী ডেভিড কেম্প্রাইয়ের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পূর্ণেন্দু এবং নিন্দু লাংথাসা ডিএইচডি জঙ্গি সংগঠনকে ৫০ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু দাবি পূরণ না হওয়ায় একজনকে দেবোলাল নিজে এবং অপরজনকে তাঁর নির্দেশে খুন করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, সে সময় পূর্ণেন্দু লাংথাসা উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের সিইএম ছিলেন এবং নিন্দু লাংথাসা ছিলেন ইএম। প্রাক্তন জঙ্গি ডেভিড কেম্প্রাই ওরফে অ্যাকশন ডিমাসার আরও স্বীকারোক্তি, ২০০৭ সালের ২৭ এপ্রিল বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের সদস্য (তদানীন্তন) প্রফুল্ল ফংলো গেরো গ্রাম থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে দেবোলালের হাতে ৫০ লক্ষ টাকা তুলে দেন। এই ৫০ লক্ষ টাকা নিয়ে সে সময় প্রফুল্ল ফংলোর দেহরক্ষীকে খুন করে তাঁর হাত থেকে ৯ এমএম কার্বাইন ছিনিয়ে নিয়েছিল দেবোলাল। তখন ডিএইচডি (জে)-র তিন জঙ্গি মাজো এন্ডি এবং গালে ভুলবশত তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। কিন্তু ভাগ্যক্রমে সেদিন তাঁরা রক্ষা পান। ওদিকে ওই ৫০ লক্ষ টাকা দেবোলালের হাতেই ছিল। দেবোলাল গারলোসা ওরফে ডেনিয়েল ডিমাসা তখন উমরাংসো জোনের এরিয়া কমান্ডার ছিলেন, আদলতকে বলেছে প্রাক্তন জঙ্গি ডেভিড কেম্প্রাই।