পানিসাগরে এক ব্যক্তির অস্বাভাবিক মৃত্যু, পরিবারের অভিযোগ পরিকল্পিত হত্যা

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুরাইবাড়ি, ১৯ আগস্ট৷৷ উত্তর জেলার পানিসাগর থানাধীন রামনগর এলাকায় এক ব্যক্তির আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য৷ মৃতের পরিবারের দাবি এটা আত্মহত্যা নয় হত্যাকান্ড৷ তদন্তে নেমেছে পানিসাগর থানার পুলিশ৷ পানিসাগর থানাধীন রামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সত্যেন্দ্র মালাকারের (৩৭) ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়৷ সত্যেন্দ্র মালাকার বৃহস্পতিবার নিজ বাড়ী থেকে বেড়িয়ে যায়৷ তখন তার পরনে ছিল হ্যাফপ্যান্ট ও হ্যাফ গেঞ্জি সাথে একটি গামছাও ছিল৷ বেশ কয়েক ঘন্টা কেটে যাওয়াতে সত্যেন্দ্র মালাকারের স্ত্রী আশপাশে খোঁজে স্বামীকে পাননি৷ একদিন পর অর্থাৎ গতকাল গ্রামবাসীরা গোটা এলাকার পাহাড় জঙ্গল খুঁজতে শুরু করেন৷ তখন পানিসাগর রউয়া পার্কের ঘন জঙ্গলে একটি ছোট গাছের ডালে গামছা দিয়ে ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান৷ খবর দেওয়া হয় পানিসাগর থানায়৷ পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সত্যেন্দ্র মালাকারের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পানিসাগর কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃতদেহটি মর্গে পাঠিয়ে দেন৷ ঘটনা সম্পর্কে পানিসাগর থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে দিয়েছে৷ আজ মৃতদেহটির ময়না তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে এই ঘটনার তদন্তকারী পুলিশ এস আই সৌরভ আলি খাদিম৷
স্ত্রী, সাত বছরের এক কন্যা সন্তান , পাঁচ বছরের এক পুত্র সন্ত্রান ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে ছিল সত্যেন্দ্র মালাকারের সংসার৷ সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিল সে৷ পোশায় ছিল কাঠমিস্ত্রি৷ পরিবারের সকলের অভিযোগ সত্যেন্দ্র মালাকার সহজ প্রকৃতির মানুষ ছিলেন৷ তার কোন শক্র নেই৷ তবে সত্যেন্দ্রের মা, স্ত্রী ও শ্বাশুরীর অভিযোগ সত্যেন্দ্রর সাথে জমি সংক্রান্ত বিবাদ ছিল তার, কাকা ও সৎ ভাইদের সাথে৷ অনেকদিন যাবৎ বাড়ী ঘরের জায়গা সম্পত্তি নিয়ে ঝগড়া চলছিল৷ কয়েকবার কাকা ও সৎ ভাইরা প্রাণে মারার হুমকিও দিয়েছিলেন অন্য লোকেদের মাধ্যমে৷ স্ত্রীর অভিযোগ তার স্বামী প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বেরোন না৷ উনি কেন ঘর থেকে ১ কিলোমিটার দূরে গভীর জঙ্গলে ফাঁসি লাগিয়ে আত্মহত্যা করতে যাবেন৷ স্ত্রীর দাবী তার স্বামীকে কে বা কারা পরিকল্পিত ভাবে খুন করে গভীর জঙ্গলের একটি গাছে ফাঁসি লাগিয়ে রেখেছে৷ স্ত্রীর আভিযোগ স্বামীকে না পেয়ে খোঁজাখঁুজি করতে শুরু করলে স্বামীর সৎ ভাইরা উনাকে ঘর থেকে বেরোতে দেয়নি৷ তাই স্ত্রীর অভিযোগের তীর সৎ দেওরের দিকে৷ অপরদিকে পত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা সত্যেন্দ্র মালাকারের দুটি হাতে, পায়ে প্রচুর রক্ত লাগানো ছিল এবং গলায় একটি দাগও ছিল৷ এখন দেখার বিষয় পুলিশের তদন্তে এই ঘটনার পিছনের রহস্য কী উন্মোচিত হয়৷