নয়াদিল্লি, ৪ অক্টোবর (আইএএনএস): ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ বিমানে পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে সহ-পাইলটের কুঠার দিয়ে হামলা এবং বিমানটি ভেঙে ফেলার চেষ্টার অভিযোগের কয়েকদিন পর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়া। হামলাকারী সহ-পাইলট ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা পেয়েছিলেন এবং সেখানে প্রায় দু’বছর পড়াশোনা করেছিলেন বলে খবর প্রকাশ্যে আসার পরই এই তদন্ত শুরু হয়েছে।
ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার বিমানে হামলার পর গুরুতর আহত হলেও অসাধারণ সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলে ১৭০ জন যাত্রীর প্রাণ রক্ষা করেন। তেল আবিবগামী বিমানটিতে সহ-পাইলট ২৯ বছর বয়সি ওমানের নাগরিক হামাম আল-হামামি তাঁকে ককপিটের ক্র্যাশ অ্যাক্স দিয়ে হামলা করেন বলে অভিযোগ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল-হামামি ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা পেয়েছিলেন এবং পরের বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কোর্সে ভর্তি হতে অস্ট্রেলিয়ায় যান। ২০১৭ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়া ছেড়ে চলে যাওয়ার পর ২০১৯ সালে তাঁর ভিসা বাতিল করা হয়। তাঁর পড়াশোনা করা অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম অবশ্য এখনও জানা যায়নি। একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, মুছে ফেলা তাঁর লিঙ্কডইন প্রোফাইল অনুযায়ী তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন।
ঘটনাটির তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। ইতিমধ্যেই তারা বিমানের ভিতরের ওই সংঘর্ষকে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
এদিকে, হামলাকারী সহ-পাইলটকে কাবু করার পর তাঁকে নিয়ে ফ্লাইদুবাইয়ের ক্রু সদস্যদের সঙ্গে ইজরায়েলি যাত্রীদের উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিন ইজরায়েলি যাত্রী হামামিকে ধরে ফেললেও কেবিন ক্রু বারবার তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। এতে যাত্রীদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়।
ব্যাংকিং সংস্থার কর্তা তজভিকা মানেস এবং রিয়েল এস্টেট পেশার সঙ্গে যুক্ত ড্যানিয়েল শ্লিখটার নামে দুই যাত্রী জানান, তাঁরা ক্রু সদস্যদের হামলাকারীকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলতে শুনেছিলেন। তাঁদের সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা হামামিকে ছেড়ে দিতে অস্বীকার করেন।
ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যম i24NEWS-এর প্রকাশিত একটি ভিডিওতে হামামিকে বিমানের ভিতরে হাঁটু গেড়ে বসে থাকতে দেখা যায়। তাঁর দুই হাত পিছনে বাঁধা ছিল এবং পোশাকে রক্তের দাগ দেখা যায়। প্রায় ৪৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে যাত্রীদের ‘শুধু পুলিশ’ এবং ‘কেবল পুলিশ’-এর মতো কথা বলতে শোনা যায়। অর্থাৎ তাঁরা হামামিকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিলেন, তাঁর উপর হামলা চালাতে নয়।



















