কলকাতা, ৪ অক্টোবর (আইএএনএস): মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে প্রতিবাদ মিছিলের পর পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারে দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ তুলেছে সিপিএম। শনিবার রাতে উত্তরবঙ্গের কোচবিহার জেলার মাথাভাঙা-১ ব্লকের জোড়পাটকি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ।
সিপিএমের জোড়পাটকি এরিয়া কমিটির পক্ষ থেকে গোলকগঞ্জ বাজার এলাকায় একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়েছিল। সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণ ও তাঁর ‘শাস্তি’, বৈধ ভোটারদের নাম অবিলম্বে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা, এখনও অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় না আসা মহিলাদের অর্থ প্রদান এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণসহ একাধিক দাবিতে ওই মিছিল হয়।
সিপিএমের অভিযোগ, মিছিল শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর তাঁদের দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। কার্যালয়ের ভিতরে থাকা বিভিন্ন সামগ্রীও নষ্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্ত শুরু করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য মোকসেদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ মিছিল হচ্ছে। পুলিশের অনুমতি নিয়েই গোলকগঞ্জ বাজারে এই মিছিল হয়েছিল। বৈধ ভোটারদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা, অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় না থাকা মহিলাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে মাসে ৩ হাজার টাকা প্রদান এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের দাবিও জানানো হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, মিছিলের পর দলীয় কার্যালয়ে কর্মীরা প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক করেন। এরপর সবাই বাড়ি চলে গেলে কার্যালয়ে তালা দেওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টা পর বিজেপি সেখানে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি। বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য তথা মণ্ডল-২-এর প্রাক্তন সভাপতি রাজীব সরকার বলেন, সিপিএমের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের খবর তিনি শুনেছেন। তবে এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কেউ জড়িত নন। তাঁর দাবি, সিপিএমের কার্যালয় ভাঙচুর করতে হলে বিজেপিকে সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো না। তিনি সিপিএমের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।



















