নয়াদিল্লি, ৪ অক্টোবর (আইএএনএস): সুশাসনই বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ধরে রাখার ‘অদৃশ্য পরিকাঠামো’ বলে মন্তব্য করেছেন উপরাষ্ট্রপতি সি.পি. রাধাকৃষ্ণন। রবিবার রাজধানীর ভারত মণ্ডপমে ইনস্টিটিউট অব কোম্পানি সেক্রেটারিজ অব ইন্ডিয়া (আইসিএসআই)-র ৫৮তম প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আইসিএসআই-এর সদস্যদের প্রতিষ্ঠা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে উপরাষ্ট্রপতি কোম্পানি সেক্রেটারিদের ‘সুশাসনের অভিভাবক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, ভারতের কর্পোরেট ক্ষেত্রে আস্থা ও বিশ্বাসের কাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কোম্পানি সেক্রেটারিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
সুশাসনের মাধ্যমে নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং জনবিশ্বাস অটুট রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে রাধাকৃষ্ণন বলেন, মানুষ যখন কর দেন, তখন তাঁরা দায়িত্বশীল প্রশাসন প্রত্যাশা করেন। একইভাবে বিনিয়োগকারীরাও আশা করেন যে সংস্থাগুলি সুষ্ঠু কর্পোরেট গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে তাঁদের স্বার্থ রক্ষা করবে।
তিনি বলেন, আইসিএসআই এখন শুধুমাত্র প্রচলিত নিয়ন্ত্রক সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং প্রতিষ্ঠানটি দেশে সুশাসনের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল ব্যবসায়িক মডেলের যুগে কোম্পানি সেক্রেটারিদের ভারতের কর্পোরেট ক্ষেত্রের আইনি, কৌশলগত ও নৈতিক ভিত্তি অটুট রাখার আহ্বান জানান উপরাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, প্রযুক্তি তথ্য তৈরির পদ্ধতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তার ধরন বদলে দিতে পারে, কিন্তু সততা, জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও দায়িত্ববোধ মানুষেরই বৈশিষ্ট্য।
রাধাকৃষ্ণন আরও বলেন, একটি ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তুলতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং সুষ্ঠু সুশাসন ভৌত ও ডিজিটাল পরিকাঠামোর মতোই গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানে তিনি ‘এমএসএমই কমপ্লায়েন্স ক্যালেন্ডার ২০২৭’ প্রকাশ করেন এবং এমএসএমই ও স্টার্ট-আপগুলির জন্য আইসিএসআই-এর বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
‘শহীদ কি বেটি’ উদ্যোগের অধীনে জাতীয় প্রতিরক্ষা তহবিল এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সশস্ত্র বাহিনী পতাকা দিবস তহবিলে আইসিএসআই-এর অবদানেরও প্রশংসা করেন তিনি। তাঁর কথায়, “উদ্দেশ্য ভালো হলে সবকিছুই ভালো হবে।”
আইসিএসআই-কে পেশাটির প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রেখে একটি শক্তিশালী, আত্মনির্ভর এবং ২০৪৭-এর বিকশিত ভারত গঠনে অবদান রাখার আহ্বান জানান উপরাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ভারতের লক্ষ্য হওয়া উচিত বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে ওঠা—অন্যদের উপর নিজেদের শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার জন্য নয়, বরং যাতে কেউ ভারতের উপর অনাকাঙ্ক্ষিত শর্ত চাপিয়ে দিতে না পারে।



















