নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা/ চুড়াইবাড়ি/চড়িলাম/কমলাসাগর, ৪ মার্চ৷৷ চাঁনমোহন ত্রিপুরা হত্যাকান্ডে সিবিআই দাবিতে

আইন অমান্য আন্দোলনে সারা রাজ্য কাঁপিয়েছে বিজেপি৷ পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুসারে আন্দোলনকারীদের মধ্যে ৩৬ হাজার ৭৭২ জন গ্রেপ্তার বরণ করেছেন৷ বিজেপির দাবি অনুযায়ী, ৪২ হাজারের অধিক কর্মী সমর্থক সারা রাজ্যে আইন অমান্য আন্দোলনে সামিল হয়েছেন৷ আন্দোলন চলাকালীন পুলিশের সাথে হাতাহাতিতে বিজেপির১৮ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন৷ তাদের মধ্যে দুজন গুরুতর আঘাত পেয়ে জিবি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন৷ এদিকে, আন্দোলনকারীদের থামাতে গিয়ে দুই পুলিশ আধিকারিকও আহত হয়েছেন৷ এদিন, বিজেপি অভিযোগ এনে বলেছে, সারা রাজ্যে আইন অমান্য আন্দোলন ভেস্তে দেওয়ার জন্য শাসক দল সিপিএমের নির্দেশে পুলিশ দলদাসে পরিণত হয়েছে৷ যার ফলে দলীয় নেতা কর্মীরা আহত হয়েছেন৷
চাঁনমোহন ত্রিপুরা হত্যাকান্ডে সিবিআই দাবিতে শনিবার সারা রাজ্যে ৬২টি স্থানে আইন অমান্য আন্দোলন পালন করেছে বিজেপি৷ এই আন্দোলন উপলক্ষ্যে সারা রাজ্যেই পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল৷ পুলিশ জানিয়েছে, সারা রাজ্যে মোট ৩৬ হাজার ৭৭২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ তবে, বিজেপির দাবি এই আন্দোলন কর্মসূচীতে প্রায় ৪২ হাজার কর্মী সমর্থক অংশ নিয়েছেন এবং তাদের মধ্যে ৩৭ হাজার নেতা কর্মী গ্রেপ্তার বরণ করেছেন৷ আন্দোলন চলাকালীন পুলিশের সাথে হাতাহাতিতে ১৮ জন কর্মী সমর্থক আহত হয়েছেন৷ তাদের মধ্যে দুজনকে জিবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷ এদিকে, খেজুর বাগান এলাকায় আইন অমান্য আন্দোলন চলাকালীন লেফুঙ্গার এসডিপিও ধ্রুব নাথ এবং নিউক্যাপিটেল কমপ্লেক্স থানার ওসি সরোজ কুমার ভট্টাচার্য আহত হয়েছেন৷
এক প্রেস বিবৃতিতে বিজেপি রাজ্য কমিটি জানিয়েছে, সারা রাজ্যে এই প্রথম কোন রাজনৈতিক দলের ডাকা আন্দোলন কর্মসূচীতে সাধারণ মানুষ বিভিন্নস্থানে স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণ করেছেন৷ বিজেপির দাবি, রাজ্যবাসীর আজ বুঝিয়ে দিয়েছেন বামফ্রন্ট সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার কোন নৈতিক অধিকার নেই৷ বিজেপির অভিযোগ, এই আইন অমান্য আন্দোলনকে ঘিরে শাসক দল সিপিএমের ক্যাডাররা বিভিন্ন স্থানে প্ররোচনা সৃষ্টি করেছে৷ অধিকাংশ পুলিশ কর্মী কর্তব্যনিষ্ঠ হলেও বেশ কয়েকটি স্থানে কিছু পুলিশ আধিকারিককে দলদাস হিসেবে কাজ করতে দেখা গেছে৷ বিশালগড়, যুবরাজনগর, ফটিকরায়, বড়জলা প্রভৃতি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে শাসক দলের ক্যাডারদেরও বিজেপি কর্মীদের ঠেকাতে মাঠে নামানো হয়েছে৷ বিজেপির দাবি, এই ধরনের কার্যকলাপ আবারও প্রমাণ করেছে রাজ্যের পুলিশ স্বাধীনচেতা ভাবে কাজ করতে পারে না৷ পুলিশের হ্রাস টেনে রেখেছে শাসকদল৷
বিজেপির আরো অভিযোগ, সিপিএম ক্যাডারদের প্ররোচনায় কয়েকজন পুলিশ কর্মী পার্টির প্রতি তাদের আনুগত্য প্রদর্শনের জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হন৷ ফলে, দলের বেশ কয়েকজন নেতা কর্মী আহত হয়েছেন৷ তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর৷ বিজেপি জানিয়েছে, দলের প্রদেশ জনসম্পর্ক প্রমুখ অধ্যাপক অলক ভট্টাচার্য, রাজ্য সম্পাদক যাদবলাল দেবনাথ সহ স্থানীয় নেতানেত্রী বিধূভূষণ সরকার, শান্তি দেবনাথ, প্রণতি দাস, পতন দেবনাথ, মুফদ্দস আলি, নির্মল দেব, শিবানি দেব দাস, দিলীপ দাস, রাজকুমার দেবনাথ, কৌশিক দাস, গৌতম রায়, আশিস দেব, পরিমল রুদ্রপাল, লিটন সরকার, পরিমল ঘোষ, সুকান্ত দে প্রমুখ আহত হয়েছেন৷ আহতদের মধ্যে অলক ভট্টাচার্য এবং বিধুভূষণ সরকারকে জিবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷
পশ্চিম জেলা পুলিশ সুপার অভিজিৎ সপ্তর্ষি জানিয়েছেন, আন্দোলন চলাকালীন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল৷ সকাল সাতটা থেকেই রাজধানী আগরতলা অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে৷



