আগরতলা, ২৬ আগস্ট: যোগেন্দ্রনগরে আক্রান্ত সিপিআই(এম)-এর পার্টি অফিস পরিদর্শন করলেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। বুধবার তিনি দলের রাজ্য সম্পাদক তথা বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী এবং অন্যান্য রাজ্য নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এম এ বেবি অভিযোগ করেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যে পরিকল্পিতভাবে সিপিআই(এম)-এর পার্টি অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, যোগেন্দ্রনগরের এই পার্টি অফিসে হামলার সময় চারজন দলীয় কর্মী উপস্থিত ছিলেন। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে তাঁরা অফিসের পিছনের একটি ছোট জায়গায় আশ্রয় নেন। পার্টি অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরা ও অন্যান্য পরিকাঠামোও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এম এ বেবির দাবি, সৌভাগ্যক্রমে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, হামলার প্রায় ১৫-২০ মিনিট পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সিপিআই(এম) নেতার আরও অভিযোগ, গত কয়েক বছরে যোগেন্দ্রনগর এলাকায় তাঁদের পার্টি অফিসে একাধিকবার হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি অফিসে আগুন লাগানোরও চেষ্টা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিজেপির ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের সমালোচনা করে এম এ বেবি বলেন, এই ডাবল ইঞ্জিন সাধারণ মানুষের জন্য ‘ট্রাবল ইঞ্জিন’-এ পরিণত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এর ফলে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন তিনি। বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধি এবং মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন এম এ বেবি। তাঁর দাবি, কর্মসংস্থানের অভাবে বহু যুবক-যুবতী কাজের সন্ধানে ত্রিপুরার বাইরে চলে যাচ্ছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে এবং রাজনৈতিক হিংসার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গণতন্ত্র রক্ষায় সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।



















