নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২০ আগস্ট: সচিবালয়ের কনফারেন্স হলে আজ কেন্দ্রীয় নীতি আয়োগের সদস্যা ড. জুরাম আনিয়া’র সভাপতিত্বে রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কাজ রূপায়ণের অগ্রগতির বিষয়ে এক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় নীতি আয়োগের সদস্যা ড. জুরাম আনিয়া বলেন, উত্তর পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে উন্নয়নমূলক বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণের ক্ষেত্রে ত্রিপুরার অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য ও প্রশংসনীয়। কেন্দ্রীয় নীতি আয়োগের পক্ষ থেকে রাজ্যে ঊনকোটি পর্যটন ক্ষেত্রের উন্নয়নে বিভিন্ন বাধা ও প্রতিবন্ধকতা দূর করা হবে এবং তার উন্নয়নে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, রাজ্যের টি আই এফ টি গঠন উত্তর পূর্ব ভারতের মধ্যে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। রাজ্যে একটি জিমন্যাস্টিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের ব্যাপারেও সহায়তা করা হবে। তিনি বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা নীতি আয়োগের কেন্দ্রীয় স্তরের বৈঠকগুলিতে রাজ্যের নানা সমস্যা ও দাবিগুলি সঠিকভাবে তুলে ধরার জন্যই রাজ্যে বিভিন্ন প্রকল্পগুলি রূপায়ণ দ্রুত সম্ভব হচ্ছে। রাজ্যের উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে নীতি আয়োগের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে। উন্নয়নমূলক কাজগুলি সঠিকভাবে দ্রুত রূপায়ণে সবাই মিলে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে যেতে হবে।
সভায় রাজ্যের মুখ্য সচিব জে কে সিনহা রাজ্যে জাতীয় সড়কগুলির উন্নয়নে ও তার দ্রুত সংস্কারের ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানান। এছাড়াও তিনি রাজ্যের রেল ও বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থার এবং টেলি কমিউনিকেশন ব্যবস্থার মান উন্নয়নেও তার পরিধি বৃদ্ধির অনুরোধ জানান। মুখ্য সচিব বলেন, শিল্প উদ্যোগীগণ রাজ্যের শিল্প ক্ষেত্রে ১ লক্ষ কোটি টাকার উপর বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সেক্ষেত্রে সড়ক, রেল, বিমান যোগাযোগ ও টেলি কমিউনিকেশন ব্যবস্থার মান সবসময় সঠিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। তিনি রাজ্যের জন্য একটি শক্তিশালী পলিসি তৈরী করতে কেন্দ্রীয় নীতি আয়োগের প্রতি অনুরোধ জানান।
সভায় অন্যান্য দপ্তরের মধ্যে গুড গর্ভন্যান্স, পূর্ত ও স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে বিকশিত ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যে উন্নয়নমূলক পরিকল্পনাগুলি রূপায়ণ সম্পর্কে নীতি আয়োগের সদস্যাকে অবহিত করেন। সভায় শিক্ষা দপ্তরের সচিব ড. মিলিন্দ রামটেকে রাজ্যের বর্তমান শিক্ষার পরিকাঠামো এবং শিক্ষার মান উন্নয়ন সহ বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে কি কি কাজ করা হয়েছে সেগুলির সম্পর্কে নীতি আয়োগের সদস্যাকে অবহিত করেন। পর্যটন দপ্তরের সচিব উত্তম কুমার চাকমা রাজ্যের পর্যটন স্থানগুলির উন্নয়নমূলক কাজ বিষয়ে অবহিত করেন।
এছাড়া তিনি পর্যটন ক্ষেত্রের উন্নয়ন আরও তরান্বিত করতে নীতি আয়োগের কাছে বিভিন্ন দাবি ও প্রস্তাব পেশ করেন। যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের সচিব তাপস রায় রাজ্যের বর্তমান ক্রীড়া পরিকাঠামো অবস্থা, বিভিন্ন পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের সাফল্য সম্পর্কে অবহিত করেন।
সভায় নীতি আয়োগের এম ডি অনুপম লাহেরী বলেন, নীতি আয়োগের পক্ষ থেকে রাজ্যগুলিকে যথাযথ সহযোগিতা করা হবে। তিনি রাজ্যের আনারস ও রাবার উৎপাদনের প্রশংসা করেন। তিনি ত্রিপুরাতে প্লাস্টিক রিসাইকেলিং শিল্প স্থাপনের উপর জোর দিতে বলেন এবং এব্যাপারে নীতি আয়োগের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে বলে জানান। সভায় বিভিন্ন দপ্তরের সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।



















