নয়াদিল্লি, ২০ আগস্ট (আইএএনএস): কংগ্রেসের ‘চরম তোষণের রাজনীতি’র তীব্র সমালোচনা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেন, কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (সিডব্লিউসি) ‘বন্দে মাতরম’-এর মাত্র দুই স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিক ভুলের পুনরাবৃত্তি। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তই একসময় দেশভাগের বীজ বপন করেছিল।
অমিত শাহ বলেন, ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস মুসলিম তোষণের স্বার্থে ‘বন্দে মাতরম’কে দুই ভাগে ভাগ করেছিল এবং এর মাধ্যমে দেশভাগের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল।
তিনি বলেন, “সেখান থেকেই দ্বিজাতিতত্ত্ব শক্তিশালী হয়, যার পরিণতিতে শেষ পর্যন্ত দেশভাগ এবং পাকিস্তানের জন্ম হয়।” সিডব্লিউসির বর্তমান সিদ্ধান্তকে তিনি ‘দেশবিরোধী’ এবং সংসদে প্রণীত আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন বলেও অভিহিত করেন।
বিজেপির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে শাহ বলেন, স্বাধীনতার ৮০ বছর পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কংগ্রেসের ১৯৩৭ সালের সেই সিদ্ধান্ত সংশোধন করেছেন।
তিনি বলেন, “এই সংশোধনের বিরোধিতা দেশের মানুষ আর মেনে নেবে না।” কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের নিন্দা করে বিজেপি সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিধানসভা ও সংসদীয় মঞ্চেও এর বিরুদ্ধে সরব হবে বলেও জানান তিনি।
কংগ্রেসের দেশপ্রেম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দলের এই সিদ্ধান্ত তাদের ‘নির্লজ্জ তোষণের রাজনীতি’রই প্রমাণ।
শাহ বলেন, “রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস আবারও দেশে অত্যন্ত জোরালোভাবে তোষণের রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে—এটি অত্যন্ত বিস্ময়কর।”
তিনি দেশের মানুষকে অতীতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, একসময় ‘বন্দে মাতরম’কে দুই ভাগে বিভক্ত করার ভুলের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এবং তার গুরুতর পরিণতি দেশকে ভোগ করতে হয়েছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশবাসীকে কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরব হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, তোষণের রাজনীতিকে আর কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না—এই বার্তা স্পষ্ট করে দিতে হবে।
বুধবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম’-এর পরিবর্তে দলীয় কর্মসূচিতে জাতীয় সংগীতটির প্রথম দুই স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের পরই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অমিত শাহের এই তীব্র আক্রমণ সামনে এল।
–আইএএনএস



















