রামাল্লা, ১৯ আগস্ট (আইএএনএস): ভারত ও ফিলিস্তিনের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করা এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার বিষয়ে বুধবার ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মুস্তাফার সঙ্গে আলোচনা করেছেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের সচিব শ্রীপ্রিয়া রঙ্গনাথন।
ফিলিস্তিন সফররত রঙ্গনাথন একই দিনে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কূটনৈতিক উপদেষ্টা মাজদি আল-খালদির সঙ্গেও বৈঠক করেন। আলোচনায় ফিলিস্তিনের প্রতি ভারতের অব্যাহত সমর্থনের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন ক্ষেত্রে ভারত-ফিলিস্তিন উন্নয়ন অংশীদারিত্ব আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।
রামাল্লায় ফিলিস্তিনে ভারতের প্রতিনিধি দপ্তর জানিয়েছে, রঙ্গনাথন ও আল-খালদি দুই দেশের বৃহত্তর অংশীদারিত্বের পাশাপাশি রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং উন্নয়নমূলক সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন।
বিদেশ মন্ত্রকের কনস্যুলার, পাসপোর্ট ও ভিসা এবং প্রবাসী ভারতীয় বিষয়ক সচিব রঙ্গনাথন ১৬ থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত মিশর, ফিলিস্তিন ও লেবানন সফর করছেন।
এদিন ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মাজেদ আবু রমাদানের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ভারতের সহায়তা আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং ক্যানসারের ওষুধ সরবরাহ, কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজন শিবির এবং গাজায় ভারতীয় ফিল্ড হাসপাতাল মোতায়েনের মতো উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন ভারতীয় কূটনীতিক।
বৈঠকের সময় ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের হাতে ওষুধের একটি চালান তুলে দেন রঙ্গনাথন। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য পরিষেবায় ভারতের অব্যাহত সমর্থনের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রামাল্লায় ভারতের প্রতিনিধি দপ্তর।
এর আগে বুধবার রাষ্ট্রসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ ও কর্ম সংস্থা-কে ভারতের দীর্ঘদিনের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে সংস্থাটির একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করেন রঙ্গনাথন। সেখানে তাঁকে ফিলিস্তিনি জনগণকে দেওয়া স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
রামাল্লায় ভারতের প্রতিনিধি দপ্তর জানায়, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবা প্রদানে ইউএনআরডব্লিউএ-কে ভারতের সমর্থন অব্যাহত রয়েছে।
মঙ্গলবার ফিলিস্তিনের বিদেশ ও প্রবাসী বিষয়ক মন্ত্রী ভার্সেন আগাবেকিয়ান শাহিনের সঙ্গেও বৈঠক করেন রঙ্গনাথন। ফিলিস্তিন সফরে এটিই ছিল তাঁর প্রথম সরকারি বৈঠক।
বৈঠকে ভারত-ফিলিস্তিন সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় ফিলিস্তিনের বর্তমান পরিস্থিতি, গাজার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদারিত্ব।
বিদেশ মন্ত্রকের সচিব ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি ভারতের ধারাবাহিক সমর্থন এবং আলোচনার মাধ্যমে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি ভারতের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। গাজার গুরুতর মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের উদ্বেগও জানান তিনি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে নিরাপদ, নিরবচ্ছিন্ন ও বাধাহীন মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেন।
শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য প্রচেষ্টা এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সংঘাতের দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের প্রতি ভারতের সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন রঙ্গনাথন।
বৈঠকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো ক্ষেত্রে চলমান ভারতীয় উদ্যোগগুলির অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। একইসঙ্গে ফিলিস্তিনের প্রয়োজন মেটাতে ভারতের উন্নয়নের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাঁর সফল ভারত সফরের কথা স্মরণ করে ফিলিস্তিনের বিদেশমন্ত্রী উন্নয়ন প্রকল্প, সক্ষমতা বৃদ্ধি কর্মসূচি, বৃত্তি, মানবিক সহায়তা এবং ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় ভারতের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ভারত সরকারের অর্থায়নে নির্মীয়মাণ ফিলিস্তিনি ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোম্যাসির অগ্রগতি এবং সুষমা স্বরাজ ফরেন সার্ভিস ইনস্টিটিউটের সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়টিও আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।
দুই পক্ষই ভারত ও ফিলিস্তিনের জনগণের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করে ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার জানায়।
_______



















