ইম্ফল, ১৯ আগস্ট (আইএএনএস): মণিপুরের দীর্ঘস্থায়ী জাতিগত সংঘাত অবসানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেই সম্প্রদায়কে ‘বড় ভাই ও বড় বোনের’ মতো ভূমিকা পালন করে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিং। বুধবার তিনি বলেন, প্রথমে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে শুরু হওয়া জাতিগত সংঘাত বর্তমানে তিনটি সম্প্রদায়কে জড়িয়ে পড়েছে।
রাজ্যের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা শিল্পকলার বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে বুধবার ইম্ফলের বাবুপাড়ায় মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে মণিপুরের বিশিষ্ট শিল্পীদের সঙ্গে বৈঠক করেন খেমচাঁদ সিং।
শিল্পীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জাতিগত সংকট প্রথমে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে শুরু হলেও বর্তমানে তা তিনটি সম্প্রদায়ের সংঘাতে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা ও ভালোবাসা ফিরিয়ে আনতে সংকটের সময় তৈরি হওয়া বিভাজনের দেওয়াল ভাঙতে হবে।
খেমচাঁদ সিং স্মরণ করেন, জাতিগত হিংসার সময় তিনি রাজ্যের মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। সেই সময় চুরাচাঁদপুর জেলায় আটকে পড়া ১২০ জন মেইতেই শ্রমিকের জীবন রক্ষায় বিধায়ক লেটজামাং হাওকিপের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছিলেন তিনি। হাওকিপ আন্তরিকভাবে সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
এই ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, কয়েকজন ব্যক্তির অপরাধের জন্য কোনও গোটা সম্প্রদায়কে দোষারোপ করা নৈতিক নয়।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যে বসবাসকারী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিশ্বাস ও ভালোবাসা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সংঘাতের সময় তৈরি হওয়া বাধাগুলি দূর করা জরুরি।
তিনি জানান, অসমের লাগোয়া জিরিবাম জেলায় বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে এবং সেখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ পারস্পরিক অবিশ্বাস ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন।
জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) কার্যকর করার পক্ষেও রাজ্য সরকার রয়েছে বলে জানান খেমচাঁদ সিং। এ বিষয়ে সরকারের কাছে বিষয়টি তুলে ধরার জন্য শিল্পীদের ধন্যবাদও জানান তিনি।
বুধবারের বৈঠকের আয়োজনকারী শিল্প ও সংস্কৃতি এবং পর্যটন মন্ত্রী খুরাইজাম লোকেন সিং বলেন, সমস্ত শিল্পীকে সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত। রাজ্যের মানুষের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় শিল্পীদের কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মঞ্চনাট্য শিল্পী (শুমাং লীলা) শৌগ্রাকপাম হেমন্ত বলেন, মণিপুরে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বহু পুরনো সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ‘এই মণিপুরি নি’ (আমি মণিপুরি) নামে একটি মঞ্চনাটক তৈরির প্রস্তাব দেন।
বিশিষ্ট অভিনেতা গোকুল অথোকপাম বলেন, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে শিল্পীরা জাতীয় সড়ক-২ সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় যেতে প্রস্তুত। তাঁদের জন্য উপযুক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান তিনি।
শিল্পীদের সহায়তার জন্য মঞ্চনাটক বা সংগীতানুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানান অথোকপাম।
গায়ক কোন্থৌজাম বোবিন বলেন, একজন শিল্পী হিসেবে রাজ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার কাজে অংশ নিতে তিনি গর্বিত। কোন সম্প্রদায়ের মানুষ তা বিবেচনা না করে ভালোবাসার বন্ধন আরও শক্তিশালী করতে সমস্ত শিল্পীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তাংখুল নাগা লোকশিল্পী গুরু রেউবেন মাশাংভা বলেন, সমস্ত শিল্পী যদি কোনও বিভেদ ছাড়াই নিজেদের সম্মিলিতভাবে মণিপুরি হিসেবে স্বীকার করেন, তাহলে রাজ্যে ঐক্যের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
জনপ্রিয় অভিনেত্রী চানাম লীলাবতী বলেন, তরুণ প্রজন্মকে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ভালোবাসার দিকে আকৃষ্ট করতে সামাজিক মাধ্যমে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
বৈঠকে শিল্প ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব নওরেম প্রবীণ সিং, মুখ্যমন্ত্রীর মিডিয়া উপদেষ্টা ওইনাম সুনীল সিং-সহ বিশিষ্ট শিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন।



















