ওয়াশিংটন, ১৯ আগস্ট (আইএএনএস): রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবতের কানাডা সফরের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে ১০০-র বেশি কানাডীয় হিন্দু ও নাগরিক অধিকার সংগঠন। ভাগবতকে কানাডায় প্রবেশে অযোগ্য ঘোষণা করার দাবিও তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।
কার্নি এবং তিন শীর্ষ মন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা এক যৌথ চিঠিতে সংগঠনগুলি জানিয়েছে, ভাগবতকে ঘিরে অভিবাসন বা জননিরাপত্তা সংক্রান্ত যে কোনও সিদ্ধান্ত বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে নেওয়া উচিত। কোনও রাজনৈতিক চাপের ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
চিঠিটি জননিরাপত্তা মন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারী, অভিবাসন মন্ত্রী লেনা মেটলেজ ডিয়াব এবং বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) সাংসদ জেনি কোয়ান ও হিদার ম্যাকফারসন এবং আরও কয়েকটি সংগঠন কানাডা সরকারকে ভাগবতকে দেশে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
চিঠির স্বাক্ষরকারী সংগঠনগুলি জানিয়েছে, ভাগবতের সম্ভাব্য সফর কানাডার হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের দাবি, কানাডায় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্য সংখ্যা ১০ লক্ষেরও বেশি। আরএসএসকে ভারতের একটি বড় সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে তারা জানায়, সংগঠনটি সামাজিক পরিষেবা, সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোগ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং জনপরিসরের আলোচনায় সক্রিয়।
ভাগবতকে কানাডায় নিষিদ্ধ করার দাবির প্রসঙ্গে চিঠিতে বলা হয়েছে, এমন পদক্ষেপ প্রমাণ, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং কানাডার আইনের অধীনে সমান অধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ওই দুই সাংসদ ভাগবতের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের ইতিহাস, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিংসার পক্ষে অবস্থান, নির্দিষ্টভাবে ভয় দেখানো এবং অপরাধী বা তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার মতো অভিযোগ করেছেন।
তবে সংগঠনগুলির দাবি, এগুলি অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ এবং স্পষ্ট, বিশ্বাসযোগ্য ও স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ ছাড়া এগুলিকে রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
ভাগবতের সফরের বিরোধিতা করা সাংসদ ও সংগঠনগুলির কাছে অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণ প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছে স্বাক্ষরকারী সংগঠনগুলি। তাদের বক্তব্য, কোনও প্রমাণ থাকলে তা কানাডার প্রচলিত আইন ও সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা উচিত।
ভাগবতের উপস্থিতিতে ‘সামাজিক অস্থিরতা’ তৈরি হতে পারে বা কানাডীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে—এমন দাবিও চিঠিতে প্রশ্নের মুখে ফেলা হয়েছে। সংগঠনগুলির বক্তব্য, কানাডার অভিবাসন ও জননিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত আইন, বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই হওয়া উচিত, অনুমান বা রাজনৈতিক বক্তব্যের ভিত্তিতে নয়।
সংগঠনগুলি স্বীকার করেছে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক বা রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনা গণতান্ত্রিক সমাজে বৈধ। তবে প্রমাণিত নয় এমন অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও সফররত নেতাকে বাদ দিলে বহুত্ববাদ ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ভাগবতের বিরুদ্ধে প্রচারকে অনেক কানাডীয় হিন্দু স্বাভাবিকভাবেই হিন্দুবিদ্বেষ বা ‘হিন্দুফোবিয়া’-র প্রতিফলন হিসেবে দেখতে পারেন। পাশাপাশি কয়েকজন রাজনৈতিক প্রতিনিধি বা সংগঠনের মতামতকে সমস্ত কানাডীয় নাগরিক বা কানাডীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মতামত হিসেবে তুলে ধরা উচিত নয় বলেও জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, কানাডার প্রয়োজন আরও বেশি সংলাপ, বিভাজন নয়; আরও বেশি প্রমাণ, অভিযোগ নয়; রাজনৈতিক চাপ নয়, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং এমন একটি বহুত্ববাদী পরিবেশ যেখানে কোনও সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক নেতাদের স্বাগত জানানোর অধিকারকে খর্ব করা হবে না।
নথিতে কানাডা ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন, কানাডিয়ান হিন্দু চেম্বার অব কমার্স, হিন্দু স্বয়ংসেবক সংঘ, ভিএইচপি কানাডা, বিএপিএস ইনক, হিন্দু-শিখ ইউনিটি ফোরাম কানাডা-সহ ১০১টি সংগঠনের নাম রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন মন্দির এবং আঞ্চলিক সম্প্রদায়ভিত্তিক সংগঠনও রয়েছে। নথির শুরুতে ‘১০১-এরও বেশি’ সংগঠনের কথা বলা হলেও শেষের অংশে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ৫০০-রও বেশি সংগঠন ও নাগরিক অধিকার গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের দাবি করা হয়েছে।
১৯২৫ সালে ভারতে প্রতিষ্ঠিত আরএসএস একটি বৃহৎ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে পরিণত হয়েছে। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও জনজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্রিয় একাধিক সহযোগী সংগঠনের নেটওয়ার্ক রয়েছে এর। মোহন ভাগবত ২০০৯ সাল থেকে সংগঠনের সরসংঘচালক বা প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন।
–আইএএনএস



















