নয়াদিল্লি, ৩০ মার্চ (আইএএনএস): কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র বিরুদ্ধে সবরিমালা মন্দির ইস্যুতে ‘নীরব’ থাকার অভিযোগ তুললেও, সেই দাবি ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। সমালোচকদের একাংশের মতে, অতীতের একাধিক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এই প্রসঙ্গ তুলেছেন, ফলে রাহুল গান্ধীর মন্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
কেরলের আদুরে এক নির্বাচনী সভায় রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি বেছে বেছে ধর্মীয় প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। তাঁর দাবি, মন্দির ও ধর্ম নিয়ে বারবার কথা বললেও, পালাক্কাড়ে সাম্প্রতিক ভাষণে মোদি সবরিমালা প্রসঙ্গ উল্লেখ করেননি।
এছাড়াও, রাহুল গান্ধী ইঙ্গিত দেন যে এই অবস্থান বিজেপি এবং কেরলের শাসক বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এলডিএফ)-এর মধ্যে কোনও ধরনের সমঝোতার ইঙ্গিত হতে পারে।
তবে বিরোধীরা পাল্টা দাবি করছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি একাধিকবার সবরিমালা মন্দির-সংক্রান্ত বিষয়, বিশেষ করে সোনা চুরির অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে সরব হয়েছেন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক ভাষণে তিনি কেরল সরকারের কড়া সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, সবরিমালার ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষায় প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। সেই সময় তিনি “দেবতার আবাস থেকে সোনা চুরির খবর” উল্লেখ করে বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, কেরলে বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে এবং দোষীদের জেলে পাঠানো হবে—যাকে তিনি “মোদির গ্যারান্টি” বলে উল্লেখ করেন।
পরবর্তীতে কোচিতে এনডিএ-র এক সভাতেও প্রধানমন্ত্রী ফের সবরিমালা ইস্যু তোলেন। সেখানে তিনি এলডিএফ সরকারের বিরুদ্ধে “সোনা লুটের” অভিযোগ তোলেন এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ-কে “বিক্রিতে সহায়তা” করার অভিযোগে আক্রমণ করেন।
এই প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মত, রাহুল গান্ধীর মন্তব্যে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট ভাষণের উল্লেখ করা হয়েছে, অথচ প্রধানমন্ত্রী মোদির অন্যান্য বক্তব্য উপেক্ষিত হয়েছে। ফলে বিষয়টি আংশিক তথ্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।



















