নয়াদিল্লি, ২৯ মার্চ (আইএএনএস): কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং রবিবার সতর্ক করে বলেছেন, পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের জেরে জ্বালানি উৎপাদন ব্যাহত হলে তার প্রভাব গোটা বিশ্বের উপর পড়বে।
আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এই যুদ্ধের কারণে পুরো বিশ্বই উদ্বিগ্ন, কারণ ওই অঞ্চল তেল ও গ্যাসের প্রধান উৎস। স্বাভাবিকভাবেই, জ্বালানি উৎপাদনে প্রভাব পড়লে তার ফল ভুগতে হবে সকলকেই।”
এদিকে, সম্ভাব্য জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় বিহার সরকার আগাম পদক্ষেপ নিয়েছে। জেডিইউ-র জাতীয় মুখপাত্র রাজীব রঞ্জন জানিয়েছেন, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ১২টি দফতর নিয়ে একটি ‘ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ’ গঠন করা হয়েছে। খাদ্য ও সরবরাহ দফতরকে নোডাল সংস্থা করা হয়েছে। রাজ্যের বাইরে কর্মরত বিহারবাসীদের সহায়তাও এই গোষ্ঠী করবে।
অন্যদিকে, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয় আশ্বস্ত করেছে যে দেশে জ্বালানির পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৬০ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং পেট্রোল, ডিজেল বা এলপিজির কোনও ঘাটতি নেই।
মন্ত্রক জানিয়েছে, জ্বালানি সঙ্কটের খবরগুলি ‘ইচ্ছাকৃত ভ্রান্ত তথ্য’ ছড়ানোর অংশ। দেশের এক লক্ষেরও বেশি পেট্রোল পাম্প স্বাভাবিকভাবে চালু রয়েছে এবং কোথাও রেশনিং করা হচ্ছে না। কিছু জায়গায় আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটা হলেও তা ভুয়ো সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের ফল বলেই মনে করা হচ্ছে।
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তেল সংস্থাগুলি পেট্রোল পাম্পগুলিকে এক দিনের বদলে তিন দিনের বেশি ক্রেডিট সুবিধা দিয়েছে, যাতে চাহিদা বাড়লেও পর্যাপ্ত মজুত রাখা যায়।
কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ এবং নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে কোনও অসুবিধার মুখে পড়তে না দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

