ভারতে জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণ নিরাপদ, ৬০ দিনের ক্রুড মজুত ও এক মাসের এলপিজি নিশ্চিত: কেন্দ্র

নয়াদিল্লি, ২৬ মার্চ (আইএএনএস): দেশে পেট্রোল, ডিজেল ও এলপিজি সরবরাহ নিয়ে কোনও সংকট নেই—এ কথা স্পষ্ট জানিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বৃহস্পতিবার নাগরিকদের ভুয়ো খবর থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সরকার জানিয়েছে, ভারতের হাতে বর্তমানে প্রায় ৬০ দিনের ক্রুড তেলের মজুত রয়েছে এবং এলপিজির ক্ষেত্রে অন্তত এক মাসের সরবরাহ সম্পূর্ণ নিশ্চিত।

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের মোট জ্বালানি সংরক্ষণ ক্ষমতা ৭৪ দিনের হলেও বর্তমানে বাস্তবে প্রায় ৬০ দিনের মজুত রয়েছে, যার মধ্যে ক্রুড তেল, পরিশোধিত পণ্য এবং ভূগর্ভস্থ কেভার্নে থাকা কৌশলগত মজুত অন্তর্ভুক্ত। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির ২৭তম দিনেও দেশে সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।

মন্ত্রক জানিয়েছে, “দেশের কোথাও পেট্রোল, ডিজেল বা এলপিজির কোনও ঘাটতি নেই। আগামী দু’মাসের জন্য ক্রুড তেল আমদানিও ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে বৈশ্বিক পরিস্থিতি যাই হোক, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আশঙ্কা নেই।”

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেখানে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, রেশনিং বা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হচ্ছে, সেখানে ভারতে এমন কোনও পদক্ষেপের প্রয়োজন পড়েনি বলে জানানো হয়েছে। কিছু পেট্রোল পাম্পে আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটার ঘটনা ঘটলেও তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্যের ফল বলেই দাবি করেছে সরকার।

সরবরাহ নিশ্চিত করতে তেল সংস্থাগুলিকে অতিরিক্ত ক্রেডিট সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং ডিপোগুলি রাতভর চালু রেখে সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে।

হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেও ভারত বর্তমানে বিশ্বের ৪১টির বেশি দেশ থেকে ক্রুড তেল আমদানি করছে, যা আগের তুলনায় বেশি। দেশের সমস্ত রিফাইনারি ১০০ শতাংশেরও বেশি ক্ষমতায় কাজ করছে বলেও জানানো হয়েছে।

এলপিজির ক্ষেত্রেও কোনও ঘাটতি নেই। মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশীয় উৎপাদন ৪০ শতাংশ বাড়িয়ে দৈনিক ৫০ টিএমটি-তে পৌঁছেছে, যেখানে মোট চাহিদা প্রায় ৮০ টিএমটি। ফলে আমদানির প্রয়োজন কমে দাঁড়িয়েছে দৈনিক ৩০ টিএমটি।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া-সহ বিভিন্ন দেশ থেকে ৮০০ টিএমটি এলপিজি ইতিমধ্যেই পথে রয়েছে এবং দেশের ২২টি আমদানি টার্মিনালে তা পৌঁছবে। প্রতিদিন ৫০ লক্ষেরও বেশি গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে।

বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের বরাদ্দও ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যাতে মজুতদারি বা কালোবাজারি রোধ করা যায়।

পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস (পিএনজি)-এর ব্যবহারও বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ৯২ এমএমএসসিএমডি প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে, যেখানে মোট চাহিদা ১৯১ এমএমএসসিএমডি। শহর গ্যাস বিতরণ নেটওয়ার্ক ২০১৪ সালের ৫৭টি এলাকা থেকে বেড়ে এখন ৩০০-র বেশি এলাকায় বিস্তৃত হয়েছে।

মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, এলপিজি ঘাটতির কারণে পিএনজি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে—এই দাবি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। বরং পিএনজি তুলনামূলক সস্তা, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প।

সরকার নাগরিকদের শুধুমাত্র সরকারি সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের উপর ভরসা করার আহ্বান জানিয়েছে।

Leave a Reply