জম্পুইজলা বিদ্যুৎ নিগম অফিসের বিরুদ্ধে ‘পুরনো মিটার’ কাণ্ডে গ্রাহকের পকেট কাটার অভিযোগ

সিপাহীজলা, ২৬ মার্চ : এবার সিপাহীজলা জেলার জম্পুইজলা বিদ্যুৎ নিগম অফিসের বিরুদ্ধে গ্রাহকের পকেট কাটার গুরুতর অভিযোগ সামনে এল। এর আগেও রাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যুৎ নিগম অফিসের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও, একই ধরনের অভিযোগ এবার জম্পুইজলাতেও সামনে আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

জানা গেছে, জম্পুইজলা মহকুমার অন্তর্গত যুগল কিশোরনগর রায়পাড়া এডিসি ভিলেজের বাসিন্দা গরিব কৃষক সুশান্ত সরকার কয়েক বছর আগে নিজের বসতভিটে তৈরি করে সেখানে প্রথমবার বিদ্যুৎ সংযোগ নেন। অভিযোগ, সেই সময় বিদ্যুৎ নিগমের কর্মীরা তার বাড়িতে নতুন মিটারের পরিবর্তে অন্য কারও ব্যবহৃত পুরনো বৈদ্যুতিক মিটার বসিয়ে দেন।

সুশান্ত সরকারের দাবি, তিনি তখনই কর্মীদের কাছে জানতে চান পুরনো মিটার ব্যবহারে কোনো সমস্যা হবে কি না। কিন্তু কর্মীরা তাকে আশ্বস্ত করেন, এতে কোনো সমস্যা হবে না। তবে সংযোগ নেওয়ার পর প্রথম মাসেই তার বিদ্যুৎ বিল আসে ১৫ হাজার টাকারও বেশি, যা দেখে তিনি হতবাক হয়ে পড়েন।

পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, তার বাড়িতে সংযোগ দেওয়ার আগেই ওই মিটারে বিপুল পরিমাণ বকেয়া বিল ছিল, যা এখন তার নামে যুক্ত হয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি জম্পুইজলা বিদ্যুৎ নিগম অফিসে যোগাযোগ করলে, কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় যে পুরনো মিটারের বকেয়া বিল এখন তাকে পরিশোধ করতেই হবে।

এই অবস্থায় আর্থিকভাবে দুর্বল সুশান্ত সরকার ভেঙে পড়েন। তবুও ধীরে ধীরে কিছু টাকা পরিশোধ করলেও এখনও ১২ হাজার টাকারও বেশি বকেয়া রয়ে গেছে। সম্প্রতি তার বাড়িতে নতুন মিটার বসানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সুশান্ত সরকার ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, এটি বিদ্যুৎ নিগমের একটি পরিকল্পিত কৌশল, যার মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকদের পকেট কাটা হচ্ছে। তিনি রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দাবি জানান, অন্যের বকেয়া বিল তার নাম থেকে অবিলম্বে বাতিল করা হোক।

একজন গরিব কৃষক হিসেবে অন্যের বিদ্যুৎ বিল বহন করা তার পক্ষে অসম্ভব বলেও তিনি জানান। এখন দেখার বিষয়, এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজ্য বিদ্যুৎ দপ্তর বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী কত দ্রুত পদক্ষেপ নেন।

Leave a Reply