ঈদের দিনেই রক্তাক্ত মঙ্গলখালি: পাওনা টাকার বিরোধে নিহত এক ভাই, সংকটজনক অপরজন

নিজস্ব প্রতিনিধি, ধর্মনগর, ২২ মার্চ:
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন দিনেই রক্তাক্ত হয়ে উঠল উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগর মহকুমার মঙ্গলখালি এলাকা। পূর্ব শত্রুতা ও আর্থিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক নৃশংস হামলায় প্রাণ হারালেন এক ব্যক্তি, গুরুতর জখম অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন তাঁর ভাই। ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দুই ভাই—জুনেদ আহমেদ (৩৭) ও খালেদ আহমেদ (৩৩)—গতকাল দুপুরে নিজেদের জমিতে গবাদি পশু চরাচ্ছিলেন। সেই সময় একদল দুষ্কৃতী ধারালো অস্ত্র, কুড়োল ও লাঠিসোটা নিয়ে তাঁদের উপর আকস্মিক হামলা চালায় বলে অভিযোগ। এলোপাথাড়ি আঘাতে গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন দুই ভাই।

পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের প্রথমে ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের আগরতলায় রেফার করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিলচরে নিয়ে যাওয়ার পথে মাঝপথেই মৃত্যু হয় খালেদ আহমেদের। অপরদিকে, জুনেদ আহমেদ বর্তমানে শিলচরের একটি হাসপাতালে সংকটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

পরিবারের অভিযোগ, প্রায় এক বছর আগে খালেদ আহমেদের হার্ডওয়্যার দোকান থেকে প্রতিবেশী এক ব্যক্তি প্রায় আড়াই লক্ষ টাকার নির্মাণ সামগ্রী নেন, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেই টাকা পরিশোধ করেননি। পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করেই এই হামলার সূত্রপাত বলে দাবি পরিবারের।

এই ঘটনায় সাব উদ্দিন, জুবেল উদ্দিন, একরাম উদ্দিন, মইন উদ্দিন ও হায়দর আলি-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা সকলেই একই এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

এদিকে, পরিবারের অভিযোগ—ঘটনার খবর দেওয়া সত্ত্বেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব করে, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। শনিবার রাতেই ধর্মনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মৃতের পরিবার।

ঘটনার পর থেকেই মঙ্গলখালি এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে এই ঘটনার নেপথ্যে শুধুমাত্র আর্থিক বিরোধ নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Leave a Reply