বিশালগড়, ২০ মার্চ : জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত এক অসহায় জনজাতি বৃদ্ধার করুণ চিত্র সামনে এল চড়িলাম ব্লকের রামনগর ভিলেজে। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রামপদ পাড়ার বাসিন্দা ৮০ বছর বয়সী স্বামীহারা সুর বালা দেববর্মা দীর্ঘদিন ধরেই বৃদ্ধ ভাতা ও বিধবা ভাতা না পেয়ে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
জানা যায়, সুর বালা দেববর্মার স্বামী চৈত্র মোহন দেববর্মা বহু আগেই প্রয়াত হয়েছেন। তারপর থেকেই একাই জীবনের সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। জীবনের এই শেষ বয়সেও সরকারি কোনও ভাতা তার ভাগ্যে জোটেনি। একাধিকবার ভাতার জন্য আবেদন করেও কোনও সুরাহা পাননি বলে অভিযোগ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজের বাড়ির বারান্দায় বসে সংবাদ মাধ্যমের সামনে তিনি জানান, তার নিজের কোনও জমিজমা বা রাবার বাগান নেই। কেবলমাত্র একটি বসতঘরই তার একমাত্র সম্বল। জীবিকা নির্বাহের জন্য আজও অন্যের জমিতে ও রাবার বাগানে কাজ করতে হয় তাকে। এভাবেই প্রায় ৮০ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করে জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের অনেকেই সরকারি ভাতা ও আবাসন সুবিধা পেয়েছেন। সুর বালা দেববর্মা ঘর পেলেও ভাতা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তার কাছে বিপিএল রেশন কার্ড রয়েছে, যা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভাতা পাওয়ার অন্যতম প্রধান যোগ্যতা। সেই হিসেবে তিনি বৃদ্ধ ভাতা ও বিধবা ভাতা উভয়েরই দাবিদার।
তবুও আজ পর্যন্ত কোনও ধরনের ভাতা তার কাছে পৌঁছায়নি, যা নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ওই বৃদ্ধা। তিনি কাতর আবেদন জানিয়েছেন সরকারের কাছে—যদি অন্তত একটি ভাতার ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে জীবনের শেষ দিনগুলো কিছুটা স্বস্তিতে কাটাতে পারবেন। পাশাপাশি ওষুধপত্র কেনার ক্ষেত্রেও তা সহায়ক হবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে সুর বালা দেববর্মার মতো অসহায় মানুষেরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।

