বৃন্দাবনের আশ্রমে প্রেমানন্দ মহারাজের সঙ্গে সাক্ষাৎ রাষ্ট্রপতি মুর্মুর, আধ্যাত্মিক আলাপ

নয়াদিল্লি, ২০ মার্চ: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু শুক্রবার উত্তরপ্রদেশের বৃন্দাবনে শ্রী হিত রাধা কেলি কুঞ্জ আশ্রমে শ্রদ্ধেয় সাধক প্রেমানন্দ মহারাজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর আশীর্বাদ গ্রহণ করেন। এ সময় দু’জনের মধ্যে আধ্যাত্মিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রপতির চলমান তিন দিনের উত্তরপ্রদেশ সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ছিল এই সাক্ষাৎ। সফরসূচি অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।

শুক্রবার সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই রাষ্ট্রপতি আশ্রমে পৌঁছন। সেখানে প্রেমানন্দ মহারাজের শিষ্য ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁকে স্বাগত জানান। পরে রাষ্ট্রপতি মহারাজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ, সামাজিক সম্প্রীতি ও মানুষের কল্যাণে বিশ্বাসের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয় বলে সূত্রের খবর।

১৯ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সফরে রাষ্ট্রপতি অযোধ্যা, মথুরা ও বৃন্দাবনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানে প্রার্থনা ও পূজা অর্চনা করছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি মথুরায় পৌঁছে ইসকন মন্দিরে যান। সেখানে সন্ধ্যা আরতিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি স্বামী প্রভুপাদের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। এছাড়াও কৃষ্ণ-বলরাম ও শ্যামসুন্দর মন্দিরে প্রার্থনা করেন।

এর আগে অযোধ্যায় শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরে ‘শ্রী রাম যন্ত্র’ স্থাপন করেন রাষ্ট্রপতি। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হওয়া এই অনুষ্ঠানকে মন্দির নির্মাণের প্রায় সমাপ্তির এক প্রতীকী মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই আচার-অনুষ্ঠানে দক্ষিণ ভারত, কাশী ও অযোধ্যার পণ্ডিতরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রেমানন্দ মহারাজের সঙ্গে সাক্ষাতের পর রাষ্ট্রপতির দিনভর আরও একাধিক কর্মসূচি রয়েছে। পরে তিনি নিম করৌলি বাবার স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন করবেন। সন্ধ্যায় বৃন্দাবনের রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রমে নতুন অনকোলজি ব্লকের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। এই উদ্যোগে এলাকায় ক্যানসার চিকিৎসা পরিষেবা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়াও তিনি সাধ্বী ঋতম্ভরা প্রতিষ্ঠিত ‘ভাত্সল্য গ্রাম’-এ যাবেন, যেখানে প্রবীণ ও অনাথ শিশুদের পরিচর্যা করা হয়।

রাষ্ট্রপতির এই সফর ২১ মার্চ শেষ হবে। সেদিন তিনি গোবর্ধনের দানঘাটি মন্দিরে প্রার্থনা করবেন এবং ঐতিহ্যবাহী গোবর্ধন পরিক্রমায় অংশ নেবেন। এরপর তিনি নয়াদিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন।

Leave a Reply