প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর তৃণমূলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে, একাধিক কেন্দ্রে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ

কলকাতা, ১৮ মার্চ: বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব একাধিক কেন্দ্রে প্রকাশ্যে চলে এল। মঙ্গলবার রাত থেকেই পূর্ব বর্ধমান থেকে জলপাইগুড়ি—রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় দলীয় অসন্তোষ, পদত্যাগের হুমকি এবং সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এসেছে।

পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ ও মন্তেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণার পরপরই দলীয় অন্দরে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। খণ্ডঘোষে নবীনা বাগকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত ঘিরে দলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের হুঁশিয়ারি, প্রার্থী বদল না করা হলে ব্লক সভাপতি, একাধিক অঞ্চল সভাপতিসহ বহু পদাধিকারী দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দেবেন এবং ভোটের প্রচারে নিষ্ক্রিয় থাকবেন।

বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতাদের একাংশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, খণ্ডঘোষে নবীনা বাগকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে তাঁরা মানতে রাজি নন। এই অবস্থান জানিয়ে ব্লক সভাপতি থেকে শুরু করে একাধিক অঞ্চল সভাপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও খবর। তাঁদের অভিযোগ, দলের ভিতরে থেকে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেন, তারাই এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন। অন্যদিকে, দলের জন্মলগ্ন থেকে যারা লড়াই করেছেন, জেল খেটেছেন, দিনের পর দিন বাড়িছাড়া থেকেছেন, তাঁদেরই এখন সংগঠনে কোণঠাসা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে মন্তেশ্বর কেন্দ্রে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর নাম ঘোষণার পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর অনুগামী এবং মন্তেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আহমেদ হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে দিগনগর গ্রামে সংঘর্ষ বেধে যায়। অভিযোগ, দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির পাশাপাশি বোমাবাজির ঘটনাও ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মন্তেশ্বর থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়। শেষ পর্যন্ত ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়। এই ঘটনায় অন্তত একজন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

এদিকে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ কেন্দ্রেও প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে। ওই কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায় তাঁর নাম প্রার্থী তালিকায় না থাকায় দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁর পরিবর্তে ওই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে ভারতীয় অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণকে, যিনি ২০১৮ এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী এবং গত মাসেই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।

খগেশ্বর রায় ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের সময় থেকেই উত্তরবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। ২০০৯ সালের উপনির্বাচনে প্রথম রাজগঞ্জ থেকে জিতে তিনি বিধায়ক হন। তারপর ২০১১ সাল থেকে টানা ওই কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন।

প্রার্থী না হওয়া প্রসঙ্গে খগেশ্বর রায়ের অভিযোগ, “আমি আজ টাকার কাছে হেরে গেলাম। মুখ্যমন্ত্রী যখন কংগ্রেস ছেড়ে নতুন দল গড়েছিলেন, তখন আমি তাঁর সঙ্গে ছিলাম। নিশ্চয়ই কোনও নেতা এমন টাকা দিয়েছেন, যার জন্য আমার নাম বাদ পড়ল। যে ব্যক্তি কোনও দিন তৃণমূলের জন্য কাজই করেননি, তাকেই আমার কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর প্রতি অন্যায় করা হয়েছে বলেই তিনি দলীয় পদ ছেড়েছেন। একই সঙ্গে তাঁর আশঙ্কা, রাজগঞ্জ কেন্দ্রে এই সিদ্ধান্তের জেরে তৃণমূলের ভরাডুবি হতে পারে, কারণ ওই কেন্দ্রে দলের সংগঠনের ভিত তিনিই তৈরি

Leave a Reply