নেপালে সেপ্টেম্বরের হিংসা তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশে অনিশ্চয়তা, নতুন সরকার গঠনের পর সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য

নয়াদিল্লি/কাঠমান্ডু, ১৭ মার্চ: নেপালে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের হিংসাত্মক ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ নিয়ে জটিলতা বাড়ছে। সরকারি সূত্রে ইঙ্গিত, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই রিপোর্টটি প্রকাশ করা হতে পারে।

প্রাক্তন বিচারপতি গৌরী বাহাদুর কার্কি-র নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিশন ইতিমধ্যেই ৮ মার্চ অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে রিপোর্ট জমা দিয়েছে। বর্তমানে দেশটির অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি-র নেতৃত্বে সরকার চলছে।

এই রিপোর্ট প্রকাশের দাবিতে নেপালের তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে ‘জেন-জি’ আন্দোলনের কর্মীরা লাগাতার বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। রাজধানী কাঠমান্ডুর মৈতিঘর মণ্ডলা এলাকায় প্রতিদিনই প্রতিবাদ কর্মসূচি দেখা যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বরের ঘটনায় পুলিশের দমন-পীড়ন, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। সেই প্রেক্ষিতে ২১ সেপ্টেম্বর গঠিত হয় এই তদন্ত কমিশন। নির্ধারিত সময়ে রিপোর্ট জমা দিতে না পারায় কমিশনের মেয়াদ একাধিকবার বাড়ানো হয়।

সরকারি মহলের দাবি, রিপোর্টটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় জড়িত থাকায় তাড়াহুড়ো করে তা প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে সমালোচকদের মতে, এটি সরকারের জবাবদিহিতা এড়ানোর কৌশল।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) ক্ষমতায় এসেছে এবং তাদের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী বালেন্দ্র শাহ নতুন নেতৃত্বের মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন। নতুন সরকার শীঘ্রই দায়িত্ব নিলে এই রিপোর্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

অভিযোগ, রিপোর্টে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনিক কর্তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অনুমোদনের বিষয় উঠে এসেছে। ফলে রিপোর্ট প্রকাশ পেলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলিও রিপোর্ট প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, রিপোর্ট গোপন রাখা হলে নেপালের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

প্রসঙ্গত, এই রিপোর্ট এখন শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক নথি নয়, বরং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নে নেপালের জনগণের কাছে এক বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

Leave a Reply