আগরতলা, ১৭ মার্চ : অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সাইন্সেস (এইসময়)-এর বিশেষজ্ঞ দলের সাম্প্রতিক সফরের পর ত্রিপুরার স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে একাধিক সংস্কার ও পরিকল্পনার রূপরেখা সামনে আনল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার ত্রিপুরা বিধানসভায় কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন এই প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে তার জবাবে বিস্তারিত তথ্য দেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ড.) মানিক সাহা।
তারকাচিহ্নবিহীন প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এইমস-এর একটি বিশেষজ্ঞ দল রাজ্যে এসে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ও পরিষেবার মূল্যায়ন করে ইতিমধ্যেই তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে। তিনি বলেন, দলটি সফর করেছে এবং সরকারকে রিপোর্ট দিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এইমস নয়াদিল্লি এবং ত্রিপুরা সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (মৌ)-এর ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ত্রিপুরায় একটি ‘হেলথ ইউনিভার্সিটি’ স্থাপনের প্রস্তাব, যা মেডিক্যাল, ডেন্টাল, নার্সিং ও প্যারামেডিক্যাল শিক্ষাকে শক্তিশালী করবে।
তিনি বলেন, ডিরেক্টরেট অফ মেডিক্যাল এডুকেশনের মাধ্যমে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালগুলিকে একত্রিত করে প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এইমস-এর সহযোগিতায় টেলিমেডিসিন পরিষেবা ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে এবং হাসপাতাল পরিচালনায় বিশেষজ্ঞ নিয়োগের উদ্যোগও চলছে।
স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে ইমার্জেন্সি মেডিসিন ও ট্রমা সার্জারি বিভাগ চালুর পরিকল্পনা, “ওয়ান বেড-ওয়ান পেশেন্ট” নীতি বাস্তবায়ন, মাতৃ ও নবজাতক পরিচর্যা ইউনিট (এমএনসিইউ) এবং শিশু হৃদরোগ সার্জারি ইউনিট স্থাপনের মতো উদ্যোগের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
মানবসম্পদের ঘাটতি দূর করতে স্নাতকোত্তর চিকিৎসকদের জন্য বাধ্যতামূলক সিনিয়র রেসিডেন্সি, এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগ এবং ইন্ডিয়ান নার্সিং কাউন্সিলের নির্দেশিকা অনুযায়ী নার্স-রোগী অনুপাত বজায় রাখার প্রস্তাবও রয়েছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া ক্রয় ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণের জন্য কেন্দ্রীয় ক্রয়, ই-প্রকিউরমেন্ট এবং আইটি-নির্ভর সরবরাহ ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে ই-হাসপাতাল সিস্টেম, এলআইএস, আরআইএস এবং এআইআইএমএস-এর ‘সন্তুষ্টি’ পোর্টালের আদলে অভিযোগ নিষ্পত্তি প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগও রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, মৌ-তে উল্লিখিত বাকি সুপারিশগুলি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বিরোধীদের উত্থাপিত প্রশ্নের প্রেক্ষিতে এই আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে যে, এইমস-এর মানদণ্ড অনুসরণ করে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে ত্রিপুরা সরকার।

