অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটে নজরদারি বাড়াতে ১,১১১ জন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগ ইসির

নয়াদিল্লি, ১৭ মার্চ: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রলোভনমুক্ত করতে মোট ১,১১১ জন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগ করল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ইসির তরফে জানানো হয়েছে, আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরি-সহ মোট পাঁচটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচনে এই পর্যবেক্ষকদের মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ছয়টি রাজ্যের আটটি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনেও নজরদারি করবেন তাঁরা।

ইসি জানিয়েছে, এই পর্যবেক্ষকরাই ময়দানে কমিশনের “চোখ ও কান” হিসেবে কাজ করবেন, যাতে প্রতিটি ভোটার ভয় বা পক্ষপাত ছাড়াই নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার নির্বাচনের সূচি ঘোষণা করতে গিয়ে হিংসামুক্ত ও স্বচ্ছ ভোটগ্রহণের উপর জোর দিয়েছিলেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অসমে ১২৬টি আসনের জন্য ৫১ জন সাধারণ, ৩৫ জন পুলিশ এবং ৫০ জন ব্যয় পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। কেরলে ১৪০টি আসনে ৫১ জন সাধারণ, ১৭ জন পুলিশ এবং ৪০ জন ব্যয় পর্যবেক্ষক থাকবেন। তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনে ১৩৬ জন সাধারণ, ৪০ জন পুলিশ এবং ১৫১ জন ব্যয় পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ২৯৪টি আসন থাকা পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪ জন সাধারণ, ৮৪ জন পুলিশ এবং ১০০ জন ব্যয় পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হবে। পুদুচেরির ৩০টি আসনের জন্য থাকবেন ১৭ জন সাধারণ, ৪ জন পুলিশ এবং ১৭ জন ব্যয় পর্যবেক্ষক।

এছাড়াও উপনির্বাচনের জন্য সাধারণ, পুলিশ ও ব্যয়—প্রতিটি বিভাগে ৮ জন করে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।

ইসি নির্দেশ দিয়েছে, সমস্ত পর্যবেক্ষককে ১৮ মার্চের মধ্যে নিজ নিজ কেন্দ্রে পৌঁছতে হবে। সেখানে পৌঁছে তাঁরা নিজেদের যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ করবেন এবং প্রতিদিন প্রার্থী, রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে বৈঠক করে অভিযোগ শুনবেন।

সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ এবং ‘জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১’-এর বিধান অনুযায়ী এই কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের নিয়োগ করে থাকে নির্বাচন কমিশন, যাতে মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হয়।

Leave a Reply