পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন: ভোটের দিন নির্বাচনী আধিকারিকদের উপর কড়া নজরদারি ইসির

কলকাতা, ১৭ মার্চ: আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভোটের দিন নির্বাচনী আধিকারিকদের ভূমিকা এবার একাধিক স্তরে নজরদারির আওতায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণের সময় এই নজরদারি ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।

ইসির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সম্প্রতি এক সাংবাদিক বৈঠকে শান্তিপূর্ণ ও হিংসামুক্ত নির্বাচন করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই লক্ষ্যেই এই বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) দপ্তরের এক সূত্র।

সিইও দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নজরদারি শুরু হবে কন্ট্রোল রুম থেকে এবং তা হবে দুই স্তরে। প্রতিটি জেলার জেলা শাসক (ডিএম) তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও)-র কার্যালয়ে জেলা স্তরের কন্ট্রোল রুম থাকবে। সেখান থেকে বুথ ও ভোটকেন্দ্র স্তরে রিটার্নিং অফিসার ও পোলিং অফিসাররা ইসির নির্দেশিকা অনুযায়ী কাজ করছেন কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

দ্বিতীয় স্তরে, কলকাতায় সিইও দপ্তরে একটি সমন্বিত কন্ট্রোল রুম থাকবে। সেখান থেকে নজর রাখা হবে জেলা স্তরের আধিকারিকরা সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ কত দ্রুত নিষ্পত্তি করছেন।

এছাড়াও সমান্তরালভাবে আরেকটি নজরদারি ব্যবস্থা চালু থাকবে। রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটিতে নিয়োজিত অবজারভাররা সরাসরি বুথ ও ভোটকেন্দ্রে নজর রাখবেন। পাশাপাশি, প্রতিটি জেলায় নিযুক্ত কেন্দ্রীয় অবজারভাররা ডিইও দপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের মোতায়েন এবার জেলা প্রশাসনের পরিবর্তে ইসি-নিযুক্ত পুলিশ অবজারভারদের তত্ত্বাবধানে হবে। কোন এলাকায় কত বাহিনী মোতায়েন হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন তারাই।

আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে এবং ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। ইসির হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি দফায় অন্তত ২,৩০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে।

Leave a Reply