আগরতলা, ১৬ মার্চঃ আর্থিক চাপের মধ্যেও ত্রিপুরা সরকার রাজ্যের সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য ৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে। সোমবার ত্রিপুরা বিধানসভার অধিবেশনে এই ঘোষণা দেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক(ডা.) মানিক সাহা।
২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশের পর বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, এদিন অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে বর্তমানে ১ লক্ষ ২ হাজার ৫৬৩ জন সরকারি কর্মচারী এবং ৮১ হাজার ৬১৯ জন পেনশনভোগী রয়েছেন। আগামী ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে এই বৃদ্ধি কার্যকর হবে।
তিনি আরও জানান, মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির ফলে রাজ্য সরকারের উপর বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা পড়বে। এই বাড়তি ব্যয় মেটাতে সরকারকে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে এই ঘোষণার পরই বিরোধী শিবির থেকে প্রশ্ন তোলা হয়। কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন এবং বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী জানতে চান, অর্থমন্ত্রী প্রণজিত সিংহ রায়ের বাজেট ভাষণে কেন মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।
এছাড়াও বিরোধী দলনেতা রাজ্যে মোট কতজন চুক্তিভিত্তিক কর্মী রয়েছেন এবং তাঁদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের আর্থিক সুবিধা প্রযোজ্য হবে কি না, সে বিষয়ে সরকারের কাছে স্পষ্টীকরণ দাবি করেন।
এ বিষয়ে ট্রেজারি বেঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিরোধী সদস্যদের উত্থাপিত প্রশ্নগুলির বিস্তারিত জবাব পরে বিধানসভায় দেবেন মুখ্যমন্ত্রী।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের মোট প্রায় ১ লক্ষ ৮৪ হাজার ১৮২ জন কর্মচারী ও পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কর্মীদের দাবির প্রতি সাড়া দিতে সরকারের এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই।

