জম্মু, ১৪ মার্চ: পাকিস্তানের একটি ড্রোন আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের আকাশসীমায় ঢুকে পড়ার পর জম্মু ও কাশ্মীরের সাম্বা জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় শনিবার ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
অধিকারিকরা জানিয়েছেন, শুক্রবার গভীর রাতে রামগড় সেক্টরের কন্দরাল, আবতাল ও বহাদুরপুর গ্রামের আকাশে কয়েক মিনিটের জন্য শত্রুপক্ষের ড্রোনের গতিবিধি লক্ষ্য করা যায়।
এক কর্মকর্তা বলেন, “পাকিস্তানি ড্রোন আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করার পরই সাম্বা জেলার একাধিক সীমান্তবর্তী গ্রামে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।”
তিনি আরও জানান, ড্রোনটি থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ বা মাদকদ্রব্য ফেলা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে রাতভর এলাকা কড়া নজরদারিতে রাখা হয় এবং শনিবার ভোরে অভিযান শুরু করা হয়।
উল্লেখ্য, জম্মু ও কাশ্মীরে প্রায় ৭৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) এবং প্রায় ২৪০ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। এলওসি-র নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে ভারতীয় সেনা, আর আন্তর্জাতিক সীমান্তে মোতায়েন রয়েছে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (বিএসএফ)।
এলওসি কুপওয়ারা, বান্দিপোরা, বারামুল্লা, পুঞ্চ ও রাজৌরি জেলায় বিস্তৃত, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে সাম্বা, কাঠুয়া ও জম্মু জেলায়।
ভারতীয় সেনা ও বিএসএফ সীমান্তে অনুপ্রবেশ, মাদক পাচার এবং ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহের মতো কার্যকলাপ ঠেকাতে সর্বক্ষণ সতর্ক রয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর মদতে জঙ্গি সংগঠনগুলি প্রায়ই ড্রোন ব্যবহার করে অস্ত্র, গোলাবারুদ, মাদক ও নগদ অর্থ সীমান্ত পেরিয়ে ফেলতে চেষ্টা করে। পরে জঙ্গিদের ‘ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কার’ (ওজিডব্লিউ)রা সেই সরঞ্জাম সংগ্রহ করে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে ব্যবহার করে।
তবে সেনা ও বিএসএফ সীমান্তজুড়ে উন্নত অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি বসানোর পর থেকে জম্মু ও কাশ্মীরে ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনা অনেকটাই কমেছে বলে নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে।

