শালিসি বৈঠকে ডেকে নিয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রসহ মা ও ভাইকে মারধর, হাসপাতালে ভর্তি ছাত্র

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৈলাসহর, ৯ মার্চ: শালিসি বৈঠকের নাম করে ডেকে নিয়ে নবম শ্রেণির এক ছাত্র, তার মা এবং বড় ভাইকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়ে নবম শ্রেণির ছাত্র আব্দুল মুতলিব বর্তমানে ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনাকে ঘিরে কৈলাসহরের গৌরনগর এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, কৈলাসহরের গৌরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নাজমা বেগমের ছোট ছেলে আব্দুল মুতলিব নবম শ্রেণির ছাত্র। গতকাল রাতে একই এলাকার বাসিন্দা ইয়ামিছ আলীর ছেলে সাকিল আলীর সঙ্গে মুতলিবের ঝগড়া হয়। পরে দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসাও করে নেয়।

তবে অভিযোগ, বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে ইয়ামিছ আলীর বড় ছেলে হোসেন আলী নাজমা বেগমের কাছে কৈফিয়ত চান। এরপর সিদ্ধান্ত হয় যে, বিষয়টি নিয়ে তালেব ঠাকুরের বাড়িতে একটি শালিসি বৈঠক বসবে।
সেই অনুযায়ী নাজমা বেগম বিকেলে তালেব ঠাকুরের বাড়িতে গেলে উপস্থিত লোকজন তাকে তার ছেলে মুতলিবকে সেখানে ডাকার কথা বলেন। মায়ের ফোন পেয়ে মুতলিব সেখানে পৌঁছাতেই সাকিল আলী সহ কয়েকজন তাকে বেধড়ক মারধর শুরু করে বলে অভিযোগ।
ছেলের চিৎকার শুনে নাজমা বেগম ছুটে গিয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে ইয়ামিছ আলী ও হোসেন আলী তার উপরও শারীরিক আক্রমণ চালায় বলে অভিযোগ। পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে গুরুতর জখম অবস্থায় মুতলিব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এই ঘটনায় নাজমা বেগম কৈলাসহর থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন ইয়ামিছ আলী, সাকিল আলী এবং আহাদ উল্লাহ। অভিযুক্তদের মধ্যে ইয়ামিছ আলী একজন সরকারি কর্মচারী এবং কৈলাসহরের চণ্ডীপুর ব্লকে কর্মরত বলে জানা গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্তরা শাসক দলের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

Leave a Reply