নয়াদিল্লি, ২২ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ সাময়িকভাবে পাকিস্তানকে অর্থনৈতিক পতনের মুখ থেকে ফিরিয়ে আনলেও, দুর্বল প্রবৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ বিভক্ত রাজনীতি মধ্যমেয়াদে এই স্থিতিশীলতা ধরে রাখা কঠিন করে তুলতে পারে বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘ইন্টেলিনিউজ’-এ প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আইএমএফ পাকিস্তানের জন্য ৭ বিলিয়ন ডলারের ‘এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি’ অনুমোদন করে, যার লক্ষ্য ছিল সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার এবং নীতিগত বিশ্বাসযোগ্যতা জোরদার করা। এ পর্যন্ত পাকিস্তান প্রায় ৩.৩ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে। বাকি ৩.৭ বিলিয়ন ডলার ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত ছয় মাস অন্তর কিস্তিতে ছাড়া হবে, শর্তসাপেক্ষ পর্যালোচনা ও আইএমএফ-এর শর্ত পূরণের ভিত্তিতে।
প্রতিবেদনটি বলছে, এই কাঠামোর মাধ্যমে কঠোর নীতি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং IMF-এর অনুমোদন উপসাগরীয় অংশীদার দেশগুলির কাছ থেকেও আর্থিক সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে কাজ করছে।
ঋণের বিনিময়ে পাকিস্তান সরকার রাজস্ব সংহতি এবং কড়া মুদ্রানীতি সহ প্রথাগত সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার পথে হাঁটার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এর ফলশ্রুতিতে প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়েছে। ২০২৪ সালে প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধি ছিল মাত্র ২.৪ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে তা প্রায় ৩.৫ শতাংশ হতে পারে বলে অনুমান। বছরে প্রায় ২ শতাংশ জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে মাথাপিছু আয়ে তেমন উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি, ফলে জীবনযাত্রার মানেও বড় পরিবর্তন আসেনি।
এই দুর্বল অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট সরকারের সংস্কার কর্মসূচিকে জটিল করে তুলছে। আইএমএফ-সমর্থিত নীতির বিরুদ্ধে বিরোধিতা বাড়ছে, যা সমালোচকদের মতে প্রবৃদ্ধি-বিরোধী। জ্বালানি খাতে কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা মোকাবিলায় বিদ্যুতের শুল্ক বাড়ানোর পরিকল্পনা স্বল্পমেয়াদে মুদ্রাস্ফীতিতে প্রায় ১ শতাংশ যোগ করতে পারে এবং জনসমর্থন আরও ক্ষয় করতে পারে।
প্রতিবেদনটি আরও উল্লেখ করেছে, আইএমএফ-এর সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘ ইতিহাসও খুব আশাব্যঞ্জক নয়। ১৯৫৮ সাল থেকে এটি পাকিস্তানের ২৪তম কর্মসূচি, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বাধিক। অতীতে সংকটকালে শর্ত মেনে চলার পর চাপ কমলেই নীতিগত শিথিলতা দেখা গেছে এবং কয়েক বছরের মধ্যেই পুনরায় একই ধরনের ভারসাম্যহীনতা ফিরে এসেছে। পূর্ববর্তী কর্মসূচিগুলি স্বল্পমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনলেও দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কার বা টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে কিছু রাজনৈতিক মহল ইতিমধ্যেই বর্তমান কর্মসূচি থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসার দাবি তুলেছে। তবে ২০২৯ সালের আগে সাধারণ নির্বাচন না থাকায় এবং বৈদেশিক অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা বেশি থাকায় আপাতত সরকার নীতিগত শৃঙ্খলা বজায় রাখার কিছুটা রাজনৈতিক সুযোগ পাচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে এবং আইএমএফ-এর তত্ত্বাবধান থাকাকালীন কড়া আর্থিক ও মুদ্রানীতি বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শর্তের মেয়াদ শেষ হলে, বিশেষ করে নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে এবং প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশা অনুযায়ী না বাড়লে, অতীতের মতো নীতিগত শিথিলতার প্রলোভন আবারও দেখা দিতে পারে।

