২০২৪–২৫ অর্থবছরে ফার্মা রফতানিতে ৯.৪% বৃদ্ধি, ২০২৬–২৭-এ দুই-অঙ্কের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য: কেন্দ্র

নয়াদিল্লি, ২২ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ভারতের ওষুধ রফতানি ৯.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩০.৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রক শনিবার জানিয়েছে, শক্তিশালী সরকারি সহায়তায় ২০২৬–২৭ অর্থবছরে দুই-অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে এগোচ্ছে ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প।

স্কেলিং আপ ফার্মা এক্সপোর্টস শীর্ষক এক বৈঠকে সরকার, শিল্প ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে বিশ্ববাজারে ভারতের ওষুধের উপস্থিতি আরও জোরদার করার ওপর জোর দেওয়া হয়। এই উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দিকনির্দেশনায় এগিয়ে চলেছে বলে জানানো হয়েছে।

মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ভারতের ওষুধ শিল্প ২০৩০ সালের মধ্যে ১৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। উৎপাদনের পরিমাণের নিরিখে ভারত বিশ্বে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এবং ২০০-র বেশি দেশে ওষুধ রফতানি করে।

মোট রফতানির ৬০ শতাংশের বেশি যায় উচ্চ নিয়ন্ত্রিত বাজারে। ভারতের ফার্মা রফতানির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ৩৪ শতাংশ এবং ইউরোপের অংশ ১৯ শতাংশ।

এক ভিডিও বার্তায় বাণিজ্য সচিব রফতানিকারক ও প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ বজায় রাখা এবং নিয়ন্ত্রিত বাজারে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জের দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, সাশ্রয়ী ও উচ্চমানের ভারতীয় ওষুধ যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

উদ্বোধনী অধিবেশনে বাণিজ্য দফতর, ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি), সেন্ট্রাল ড্রাগস্ স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (সিডিএসসিও) এবং বিভিন্ন রাজ্যের ফুড অ্যান্ড ড্রাগস কন্ট্রোল প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সরলীকরণ, রফতানি সুবিধা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নীতিগত সংস্কারের বিষয় গুরুত্ব পায়।

বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই)-কে, যারা প্রায়শই নথিপত্র, মাননিয়ন্ত্রণ ও পরিদর্শন সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।

এছাড়া ২০২৬–২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে বায়োফার্মা ও বায়োলজিক্স খাতে অগ্রাধিকারের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। প্রস্তাবিত ‘বায়োফার্মা শক্তি’ উদ্যোগে আগামী পাঁচ বছরে ১০,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর লক্ষ্য বায়োলজিক্স ও বায়োসিমিলার ক্ষেত্রে দেশের সক্ষমতা বাড়ানো, আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং বৈশ্বিক বায়োফার্মাসিউটিক্যাল বাজারের অন্তত ৫ শতাংশ দখল করা।

Leave a Reply