কাঠমান্ডু, ২২ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): নেপালের সীমান্তবর্তী জেলা রৌতাহাট-এ সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের জেরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর রবিবার জেলার সক্রিয় সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে এক সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক থেকে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।
জেলা সদর গৌর-এ বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরবর্তী দিনগুলিতে পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে শনিবার বিকেল থেকে প্রশাসন আংশিক কারফিউ জারি করে।
জেলা প্রশাসন কার্যালয় (ডিএও), রৌতাহাট জানিয়েছে, লালবাকাইয়া বাঁধ এলাকা থেকে গৌর কাস্টমস অফিস পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় রবিবারও কারফিউ বলবৎ ছিল, যাতে নতুন করে অশান্তি ছড়িয়ে না পড়ে।
সর্বদলীয় বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে সকল পক্ষকে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা, ঐক্য ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়।
জেলার বাসিন্দাদের উদ্দেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, সংঘর্ষের ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরই পড়বে। তাই সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ করে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
ভারত সীমান্তঘেঁষা রৌতাহাট জেলা নেপালের অন্যতম দরিদ্র অঞ্চল এবং অতীতে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উত্তেজনার ইতিহাস রয়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক হিন্দু দম্পতির বিয়ের শোভাযাত্রা চলাকালীন উচ্চস্বরে বাজনা বাজানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। ওই সময় মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা রমজান মাসে ধর্মীয় আচার পালন করছিলেন। আপত্তির জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা থেকে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার উভয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠকে ছয় দফা সমঝোতা হলেও শনিবার সকালে একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপরই প্রশাসন কারফিউ জারি করে বৃহত্তর সাম্প্রদায়িক সংঘাত এড়াতে ব্যবস্থা নেয়।
এদিকে নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এক বিবৃতিতে সকলকে ধর্মীয় সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। যে কোনও ধরনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী, হিংসা উসকে দেওয়া বা বিদ্বেষ ছড়ানোর প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

