নিরাপত্তা পরিষদে তৃতীয় শ্রেণির সদস্যপদ প্রস্তাব খারিজ ভারতের, সংস্কার বিলম্বের কৌশল বলে দাবি

জাতিসংঘ, ২১ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ সম্প্রসারণের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ও পুনর্নির্বাচনযোগ্য একটি তৃতীয় শ্রেণির সদস্যপদের প্রস্তাবকে সরাসরি খারিজ করল ভারত। এই প্রস্তাবকে সংস্কার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার কৌশল বলে অভিহিত করেছে নয়াদিল্লি।

শুক্রবার আন্তঃসরকারি আলোচনার (আইজিএন) বৈঠকে ভারতের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি পরিকল্পনা প্যাটেল বলেন, তৃতীয় শ্রেণির সদস্যপদ বিবেচনার প্রস্তাবটি আসলে একটি ‘রেড হেরিং’, যার উদ্দেশ্য সংস্কারের পথ রুদ্ধ করা বা তা কয়েক দশক পিছিয়ে দেওয়া। তাঁর কথায়, “এই ধরনের প্রস্তাব জাতিসংঘের বৈধতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও প্রাসঙ্গিকতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং সংস্থাকে দীর্ঘদিনের সঙ্কটে আটকে রাখবে।”

‘ফিক্সড রিজিওনাল সিটস’ নামে পরিচিত এই তৃতীয় শ্রেণির প্রস্তাবটি মূলত স্থায়ী সদস্যপদ সম্প্রসারণের বিরোধী ‘ইউনাইটিং ফর কনসেনসাস’ (ইউএফসি) গোষ্ঠীর তরফে উত্থাপিত হয়েছে। ইতালির নেতৃত্বাধীন এই গোষ্ঠীতে পাকিস্তানও সদস্য। ইউএফসি স্থায়ী সদস্যপদ বাড়ানোর বিরোধিতা করে এবং তার পরিবর্তে এই নতুন শ্রেণির প্রস্তাব দিয়েছে। আলোচনার অগ্রগতি ঠেকাতে প্রক্রিয়াগত কৌশল প্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

প্যাটেল বলেন, “কয়েকটি স্বার্থান্বেষী দেশ ছাড়া অধিকাংশ সদস্য রাষ্ট্রই মনে করে নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের সময় বহু আগেই পেরিয়ে গেছে।”

ভারত-সহ জি-৪ গোষ্ঠীর পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাপানের স্থায়ী প্রতিনিধি ইয়ামাজাকি কাজুয়ুকি বলেন, প্রস্তাবিত এই আসনগুলি কার্যত বর্তমান অস্থায়ী সদস্যপদের মতোই। যেহেতু সদস্যপদের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত নয়, তাই এটি স্থায়ী সদস্যপদের বিকল্প হতে পারে না এবং পরিষদের কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতার সমাধানও নয়। জি-৪ গোষ্ঠীতে ভারত ছাড়াও জার্মানি, ব্রাজিল ও জাপান রয়েছে এবং তারা স্থায়ী সদস্যপদ সম্প্রসারণের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে সওয়াল করে।

এছাড়া, সংস্কারপন্থী এল.৬৯ গোষ্ঠীও তৃতীয় শ্রেণির প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। সেন্ট লুসিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি মেনিসা র‌্যামবালি বলেন, স্থায়ী ও অস্থায়ী—উভয় শ্রেণির সম্প্রসারণের পরিবর্তে কোনও মধ্যবর্তী বা হাইব্রিড প্রস্তাব প্রকৃত সংস্কার নয়। “গ্লোবাল সাউথ ৮০ বছর অপেক্ষা করেছে কেবলমাত্র আপসের সমাধান গ্রহণ করার জন্য নয়,” মন্তব্য করেন তিনি। এল.৬৯ গোষ্ঠীতে বিশ্বের ৪২টি উন্নয়নশীল দেশ রয়েছে।

তৃতীয় শ্রেণির সদস্যদের ভেটো দেওয়ার প্রস্তাবও খারিজ করেছেন প্যাটেল। তিনি বলেন, “কোন দেশ ভেটো প্রয়োগ করবে এবং কীভাবে করবে, সে বিষয়ে স্পষ্টতা না থাকলে কোনও গোষ্ঠীকে ভেটো দেওয়া যায় না।” তাঁর মতে, এই নতুন ধারণা আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলছে এবং স্থায়ী সদস্যপদ সম্প্রসারণের বিরোধিতাকে প্রোথিত করছে।

প্যাটেল জোর দিয়ে বলেন, স্থায়ী ও অস্থায়ী—দুই শ্রেণিতেই সদস্যপদ বাড়ানোই অর্থবহ সংস্কারের মূল চাবিকাঠি এবং অধিকাংশ সদস্য রাষ্ট্র এর পক্ষে। স্থায়ী শ্রেণির সম্প্রসারণ ছাড়া কোনও সংস্কারই অসম্পূর্ণ ও অন্যায্য হবে।

তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের কার্যপদ্ধতি ও কাজের ধরন প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্বিন্যাস করা যেতে পারে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকা-কারিবীয় গোষ্ঠীর স্থায়ী সদস্যপদে অনুপ্রতিনিধিত্ব বা অপ্রতিনিধিত্বের প্রশ্নটি সংস্কারের কেন্দ্রীয় বিষয় হওয়া উচিত বলেও মত প্রকাশ করেন ভারতের প্রতিনিধি।
____

Leave a Reply