ঢাকা, ২১ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শনিবার মধ্যরাত থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান শিক্ষার্থী, সমাজকর্মী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থকেরা।
ঐতিহাসিক এই দিনটি উপলক্ষে অংশগ্রহণকারীরা রাত বারোটার পর থেকেই জড়ো হতে শুরু করেন এবং সকাল পর্যন্ত শ্রদ্ধা নিবেদন অব্যাহত থাকে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগের পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়।
এক শিক্ষার্থী আইএএনএস-কে বলেন, “আমার বিশ্বাস, কেউ ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করলেও তার বাংলা ভাষা শেখা ও সম্মান করা উচিত। তা না হলে বাংলার জন্য যে আন্দোলন হয়েছিল, তার উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যাবে।”
ছাত্রনেত্রী মাকসুদা মনি ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের এই দিনে ছাত্র ও সাধারণ মানুষ মাতৃভাষার স্বীকৃতির দাবিতে রাস্তায় নেমেছিলেন। তাঁদের আত্মত্যাগের ফলেই আমরা আজ গর্বের সঙ্গে বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারছি।”
সমাজকর্মী আফরিনা পারভীন বলেন, “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এখন বিশ্বব্যাপী পালিত হয়—এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। যাঁদের আত্মত্যাগে এই স্বীকৃতি এসেছে, তাঁদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।”
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র এক সমর্থক বলেন, “২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে এখানে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি গর্বিত। ১৯৫২ সালে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার প্রতিবাদে ছাত্রদের ওপর গুলি চালানো হয়েছিল। আমরা বাঙালি, আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ কখনও ভোলার নয়।”
প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয় ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বহুভাষিক শিক্ষার প্রসারের গুরুত্ব তুলে ধরতে। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য ‘বহুভাষিক শিক্ষায় তরুণদের কণ্ঠস্বর’, যা ভাষাগত ঐতিহ্য রক্ষায় যুবসমাজের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে।
১৯৫২ সালে ঢাকায় রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার স্বীকৃতির দাবিতে ছাত্রদের নেতৃত্বে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে, তা পরবর্তীতে সহিংস রূপ নেয় এবং কয়েকজন আন্দোলনকারী শহীদ হন। এই ঘটনাই দেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
১৯৯৯ সালের নভেম্বরে ইউনেসকো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে এবং ২০০২ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ তা অনুমোদন করে। এরপর থেকে দিনটি বিশ্বব্যাপী সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উদযাপন ও বিপন্ন ভাষা সংরক্ষণের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পালিত হয়ে আসছে।
_____

