News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • লিপি ভাষার বিকাশের জন্য, বিবাদের জন্য নয়: অমিত শাহ
Image

লিপি ভাষার বিকাশের জন্য, বিবাদের জন্য নয়: অমিত শাহ

আগরতলা, ২০ ফেব্রুয়ারি: ভাষা কোনো বিবাদের বিষয় নয়, বরং বিকাশের মাধ্যম—এই বার্তা দিয়েই ত্রিপুরাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন ভাষাকে নাগরী লিপিতে সংরক্ষণের আহ্বান জানালেন কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রী অমিত শাহ। পূর্ব, উত্তর-পূর্ব এবং উত্তর অঞ্চলের যৌথ আঞ্চলিক রাজভাষা সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বিদেশি লিপির মাধ্যমে দেশীয় ভাষার কোনোভাবেই সংরক্ষণ সম্ভব নয়।

ত্রিপুরায় যারা বিদেশি লিপিতে নিজেদের ভাষা সংরক্ষণ করতে চাইছেন, তাঁদের দেবনাগরী লিপি গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য রাজ্য এই বিষয়টি স্বীকার করে এগিয়ে গেছে, তাই এ রাজ্যেও এ নিয়ে বিভ্রান্তি না বাড়িয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

গৃহমন্ত্রীর দাবি, দেশে ২০০০-রও বেশি ভাষা দেবনাগরী লিপির মাধ্যমে সংরক্ষণ করা সম্ভব। বহু ভাষার নির্দিষ্ট লিপি না থাকায় সেগুলির সংরক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশে নাগরী লিপি কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি। নীতি-নির্ধারণ ও রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে রাজভাষা এবং স্থানীয় ভাষার গুরুত্ব অপরিসীম—এ কথা উল্লেখ করে ভাষার বিকাশে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ত্রিপুরাতে ভাষার কারণে কখনো বিবাদ হয়নি। তিনটি ভাষা (বাংলা,ককবরক, হিন্দি) সমান্তরালভাবে এখানে চলছে বলে দাবি করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

হিন্দি ভাষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হিন্দির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। তবে হিন্দি ও আঞ্চলিক ভাষার মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই; বরং “একই মায়ের দুই বোন”-এর মতো সম্পর্ক। তাঁর কথায়, হিন্দির বিকাশ হলে অন্যান্য ভাষারও প্রসার সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র নেতৃত্বে স্বভাষা শিক্ষার উপর জোর দেওয়া হয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দির মাধ্যমে যোগাযোগ আরও সহজ হয়েছে, যা জাতীয় ঐক্যকে শক্তিশালী করছে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রসঙ্গ তুলে গৃহমন্ত্রী জানান, এখানে আটটি রাজ্যে ২০০-রও বেশি ভাষা, ১৬০টি জনজাতি, প্রায় ৫০টি ভিন্ন উৎসব এবং ৩০-রও বেশি ঐতিহ্যবাহী নৃত্যশৈলী বিদ্যমান। একসময় যে অঞ্চল সন্ত্রাসের কারণে পরিচিত ছিল, গত দশ বছরে বিভিন্ন শান্তি চুক্তির মাধ্যমে সেখানে সাংস্কৃতিক বিকাশের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। বর্তমানে রাজভাষা সম্মেলনের মতো অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে আয়োজন সম্ভব হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এছাড়াও মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেন গৃহমন্ত্রী। তাঁর মতে, শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা অবশ্যই মাতৃভাষায় হওয়া উচিত। পরিবারেও সন্তানদের মাতৃভাষায় পড়াশোনায় উৎসাহিত করার আহ্বান জানান তিনি। সম্মেলনে উপস্থিত বিশিষ্টজনদের উদ্দেশে তিনি ভাষার সংরক্ষণ, বিকাশ ও জাতীয় সংহতির স্বার্থে রাজভাষা ও স্থানীয় ভাষাকে আরও শক্তিশালী করার ডাক দেন।

Releated Posts

এডিসি এলাকা বিজেপি মুখী, মানুষের আস্থা স্পষ্ট : কৃষিমন্ত্রী

আগরতলা, ৬ এপ্রিল:  বিরোধী দল জয়ী হলে আবার তারা বঞ্চনার মিথ্যা অভিযোগ তুলবে এতে বার বার ক্ষতি হচ্ছে…

ByByReshmi Debnath Apr 6, 2026

উন্নয়নের নিরিখে মানুষ এখন ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করতে চাইছেন: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ৬ এপ্রিল: উন্নয়নের নিরিখে মানুষ এখন ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করতে চাইছেন। ভারতীয় জনতা পার্টির নীতি আগে…

ByByReshmi Debnath Apr 6, 2026

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে ঢাকাস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্ব

ঢাকা, ৬ এপ্রিল : বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।…

ByBySandeep Biswas Apr 6, 2026

বকেয়া বিলের দাবিতে সিপাহীজলায় এজিএমকে ঘেরাও ঠিকাদারদের, ১০ এপ্রিল থেকে কাজ বন্ধের হুঁশিয়ারি

বিশালগড়, ৬ এপ্রিল: বকেয়া বিলের দাবিতে সিপাহীজলা জেলা বিদ্যুৎ সার্কেল অফিসের এজিএম মৃত্যুঞ্জয় দাসকে ঘেরাও করলেন ইলেকট্রিক ঠিকাদাররা।…

ByByReshmi Debnath Apr 6, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top