নয়াদিল্লি/ইটানগর, ২০ ফেব্রুয়ারি: অরুণাচল প্রদেশের ৪০তম রাজ্য প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডুকে চিঠি লিখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকার নজিরবিহীন গুরুত্ব ও সম্পদ ব্যয় করেছে। এর ফলে গোটা অঞ্চলে নতুন করে উন্নয়ন, সংযোগব্যবস্থা ও সুযোগের দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে।
চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সীমান্তবর্তী এই রাজ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কেন্দ্র সরকার দিনরাত কাজ করেছে। গত এক দশকে হাজার হাজার কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে, যার অনেকগুলোই দুর্গম এলাকায়। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও সময়মতো সমাপ্তি সরকারের সর্বাঙ্গীণ সংযোগ উন্নয়নের অঙ্গীকারের প্রমাণ বলে তিনি জানান।
অরুণাচল প্রদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মধ্যে এই রাজ্যেই সূর্য সবার আগে উদিত হয়। “যে ভূমি সবার আগে প্রভাতকে স্বাগত জানায়, সেই ভূমি দেশপ্রেম ও ঐক্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে,” বলেন তিনি। অরুণাচলের মানুষ একে অপরকে ‘জয় হিন্দ’ বলে সম্ভাষণ জানানোর ঐতিহ্যকে জাতীয় গৌরবের জীবন্ত প্রকাশ বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
রাজ্যের বিভিন্ন জনজাতি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নের প্রতি মানুষের আগ্রহ ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
অরুণাচলে নিজের একাধিক সফরের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ইটানগর থেকেই ‘জিএসটি বাঁচত উৎসব’-এর সূচনা হয়েছিল। সে সময় স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাঁর মতবিনিময় হয়। রাজ্যের চাল, আচার, চা, হস্তশিল্প, কার্পেট ও অন্যান্য পণ্যের প্রতি তাঁদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি তাঁকে মুগ্ধ করেছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অরুণাচলের সন্তান কিরেন রিজ্জু প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ায় রাজ্যবাসী গর্বিত। গত এক দশকে অরুণাচলে মন্ত্রিসভার সদস্যদের সফরের সংখ্যাও পূর্ববর্তী যেকোনও সরকারের তুলনায় বেশি বলে দাবি করেন তিনি।
সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিকে ‘শেষ গ্রাম’ হিসেবে দেখার প্রচলিত ধারণা বদলে ‘প্রথম গ্রাম’ হিসেবে বিবেচনা করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই ভাবনা থেকেই ‘ভাইব্র্যান্ট ভিলেজেস প্রোগ্রাম’ চালু করা হয়েছে, যা অরুণাচলে বিশেষ উপকারে এসেছে। পাশাপাশি উজালা প্রকল্প, পিএম কিষান, আয়ুষ্মান ভারত পিএম-জে এ ওয়াই ও জল জীবন মিশনের মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সুফলের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তাওয়াং, ওয়েস্ট কামেং, শি-ইয়োমি, আপার সিয়াং ও নামসাই জেলায় ‘জ্ঞান ভারতম মিশন’-এর অধীনে বিরল পাণ্ডুলিপির নথিভুক্তকরণ ও ডিজিটাইজেশন কাজ চলছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এর ফলে রাজ্যের বৌদ্ধিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদী।
পর্যটন, বিশেষ করে প্রকৃতি ও অ্যাডভেঞ্চার পর্যটনের প্রসারে কেন্দ্রের উদ্যোগের কথাও চিঠিতে উল্লেখ করেন তিনি। অরুণাচল সফর শেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা সবসময় রাজ্য ও রাজ্যবাসী সম্পর্কে ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা জানান বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
চিঠির শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সীমান্ত রক্ষায় সাহসী সৈনিক থেকে শুরু করে ক্রীড়াবিদ, শিল্পী, উদ্যোক্তা ও প্রশাসনিক আধিকারিক—অরুণাচলের সন্তানরা ভারতের অগ্রগতি ও নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
।।।।

