ভারত যা করেছে, তা আর কেউ পারেনি: এআই সামিটে দিল্লির প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রশংসায় ম্যাক্রোঁ

নয়াদিল্লি, ১৯ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): ইন্ডিয়া-এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন ভারতের ডিজিটাল রূপান্তরের প্রশংসা করেন। তিনি মুম্বইয়ের এক পথবিক্রেতার গল্প তুলে ধরে বলেন, “ভারত যা নির্মাণ করেছে, তা বিশ্বের আর কোনও দেশ করেনি।”

‘নমস্তে’ জানিয়ে বক্তব্য শুরু করে ম্যাক্রোঁ বলেন, “এই অসাধারণ শহর ও দেশে আমাদের স্বাগত জানানোর জন্য ধন্যবাদ। ২০২৪ সালের রাষ্ট্রীয় সফরের পর আবার ফিরে আসতে পেরে ভালো লাগছে।”

এরপর তিনি একটি ঘটনা শোনান। “দশ বছর আগে মুম্বইয়ের এক পথবিক্রেতা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেননি—ঠিকানা ছিল না, কাগজপত্র ছিল না। আজ সেই একই ব্যক্তি মোবাইল ফোনে সারা দেশ থেকে মুহূর্তে ও বিনামূল্যে পেমেন্ট গ্রহণ করছেন। এটি শুধু প্রযুক্তির গল্প নয়, এটি এক সভ্যতার গল্প। ভারত ১৪০ কোটির মানুষের জন্য ডিজিটাল পরিচয় তৈরি করেছে—যা আর কোনও দেশ করেনি,” বলেন তিনি।

ভারতের ডিজিটাল অবকাঠামোর বিস্তৃতি তুলে ধরে ম্যাক্রোঁ জানান, দেশে এমন একটি পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, যা প্রতি মাসে ২০ বিলিয়ন লেনদেন প্রক্রিয়াকরণ করে। পাশাপাশি ৫০ কোটিরও বেশি ডিজিটাল হেলথ আইডি জারি করা হয়েছে।

গত বছর প্যারিসে আয়োজিত এআই অ্যাকশন সামিট-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ফ্রান্স ও ভারত যৌথভাবে এমন একটি দিশা নির্ধারণ করেছিল, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবতার কল্যাণে ব্যবহৃত হবে—স্বাস্থ্য, শক্তি, পরিবহণ, কৃষি ও জনসেবায় পরিবর্তন আনতে।”

তিনি আরও বলেন, এআই এখন কৌশলগত প্রতিযোগিতার একটি বড় ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে এবং বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি আরও শক্তিশালী হয়েছে। তবে উদ্ভাবন, স্বাধীনতা ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের পথও উন্মুক্ত রয়েছে।

ম্যাক্রোঁ উল্লেখ করেন, ভারত ছোট ও নির্দিষ্ট কাজভিত্তিক ভাষা মডেল তৈরি করে এবং স্টার্টআপগুলিকে সহায়তা দিতে ৩৮ হাজার সরকার-অর্থায়িত জিপিইউ সাশ্রয়ী মূল্যে সরবরাহ করে নিজস্ব পথ বেছে নিয়েছে।

বক্তৃতার শেষে তিনি আবার মুম্বইয়ের পথবিক্রেতার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “একসময় বিশ্ব বলেছিল ১৪০ কোটির মানুষকে ডিজিটাল অর্থনীতির আওতায় আনা সম্ভব নয়। ভারত সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করেছে। আজ কেউ কেউ বলছে, এআই কেবল বড় শক্তিধরদের খেলা। কিন্তু ভারত, ফ্রান্স ও ইউরোপ—উদ্ভাবন ও দায়িত্ববোধকে একসঙ্গে নিয়ে—এআই-এর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে।”

তিনি উপসংহারে বলেন, “প্রযুক্তির সঙ্গে মানবিকতার সমন্বয় ঘটিয়েই ভবিষ্যৎ নির্মিত হবে, আর সেই ভবিষ্যৎ গঠনে ভারত ও ফ্রান্স একসঙ্গে কাজ করবে।”

Leave a Reply