জয়পুর, ১৯ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): রাজস্থানে তরুণ ও শিশুদের মধ্যে হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে মৃত্যুর ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে উচ্চপর্যায়ের বৈজ্ঞানিক তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানালেন কংগ্রেস নেতা অশোক গেহলট।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী গেহলট বলেন, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা টিকারাম জুলাই-সহ একাধিক বিধায়ক যে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন, তা অত্যন্ত গুরুতর। সুস্থ-সবল তরুণ এমনকি চিকিৎসকদেরও আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় সমাজে ভয় ও সন্দেহের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আন্তর্জাতিক স্তরে টিকা-সংক্রান্ত বিরল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, যেমন অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ডের সঙ্গে যুক্ত ‘থ্রম্বোসিস উইথ থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া সিন্ড্রোম’ (টিটিএস) নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে গেহলট বলেন, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর রিপোর্টে সরাসরি কোনও সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তবে লং কোভিড ও টিকার হৃদ্রোগজনিত প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে এখনও গবেষণা চলছে।
তিনি বলেন, বৈজ্ঞানিক তদন্তের মাধ্যমে জনগণের সংশয় দূর করা সরকারের দায়িত্ব। গেহলট স্মরণ করিয়ে দেন, তাঁর সরকারের আমলে ২০২৩ সালের রাজ্য বাজেটে রাজস্থান স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় (আরইউএইচএস)-এ পোস্ট-কোভিড পুনর্বাসন কেন্দ্র গড়ার ঘোষণা করা হয়েছিল, যাতে কোভিড-পরবর্তী জটিলতা নিয়ে গবেষণা করা যায়। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই কেন্দ্র চালু করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
গেহলট বলেন, “সরকার এটিকে স্বাভাবিক ঘটনা বলে এড়িয়ে যেতে পারে না। রাজ্য ও কেন্দ্র—উভয় সরকারকেই রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে উচ্চপর্যায়ের বৈজ্ঞানিক তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। মানুষের জানার অধিকার আছে, এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, যাতে ভবিষ্যতে মূল্যবান প্রাণ বাঁচানো যায়।”
বুধবার টিকার পর মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে বলে অভিযোগ তোলেন টিকরম জুল্লি। তিনি দাবি করেন, পরীক্ষার সময় ছোট শিশুদেরও হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটছে। সরকারের তরফে এই ধরনের মৃত্যু ‘স্বাভাবিক’ বলে জানানো হলেও জুল্লি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর উচিত স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া।
তিনি সরকারের বিরুদ্ধে জবাবদিহি এড়ানো, তথ্য গোপন করা এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগও তোলেন। তাঁর দাবি, দুই বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় থেকেও সরকার সংস্কারের বদলে অসংগতি বাড়িয়েছে।

