কলকাতা, ১৮ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে সাসপেন্ড হওয়া সাতজন সহকারী নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক-কে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাজ্যের অন্যান্য প্রশাসনিক কাজে ব্যবহার করা হবে। তবে এ সিদ্ধান্তকে ‘আংশিক ও নগণ্য বাস্তবায়ন’ বলেই মনে করছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সাত এইআরও-র সাসপেনশনের পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার নির্দেশও দিয়েছিল কমিশন।
সিইও দফতরের এক কর্তা জানান, “প্রশ্ন উঠছে, যখন রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক পদ থেকে সাসপেনশনকে শুধু নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অন্য প্রশাসনিক কাজে নিয়োগ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, তখন বিভাগীয় তদন্ত কীভাবে নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে? কমিশনের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে সাসপেনশন নির্দেশের প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণ হয়নি।”
কমিশন বিষয়টির উপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে বলেও জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, “আরও কয়েকদিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর রাজ্য সরকারের কাছে বিভাগীয় তদন্ত শুরুর অগ্রগতি নিয়ে রিপোর্ট তলব করা হবে।”
ইসিআই যে সাতজন এইআরও -কে সাসপেন্ড করেছে, তাঁরা হলেন— মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ কেন্দ্রের সেফাউর রহমান, ফরাক্কা কেন্দ্রের নীতিশ দাস, জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ি কেন্দ্রের ডালিয়া রায় চৌধুরী, মুর্শিদাবাদের সূতি কেন্দ্রের মুর্শিদ আলম, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং (পূর্ব) কেন্দ্রের সত্যজিৎ দাস ও জয়দীপ কুণ্ডু এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা কেন্দ্রের দেবাশিস বিশ্বাস।
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি বছরের গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হলে এবং মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট জারি হলে পুরো প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলে যাবে। সেক্ষেত্রে ওই সাত আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত এড়ানো সম্ভব হবে না। তবে তাতে রাজ্য সরকারের অস্বস্তি বাড়তে পারে বলেও মত বিশেষজ্ঞদের।

