মুম্বই, ১৭ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): শিবসেনা (ইউবিটি) সাংসদ সঞ্জয় রাউত-এর দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলের শুনানি মঙ্গলবার স্থগিত করল মুম্বইয়ের একটি সেশনস কোর্ট। প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ কিরিট সোমাইয়া-র স্ত্রী মেধা কে. সোমাইয়া দায়ের করা মানহানি মামলায় এই আপিল করা হয়েছিল।
সেশনস কোর্টে মেধা সোমাইয়ার পক্ষে কোনও আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়। রাউতের আইনজীবী মনোজ পিঙ্গলে জানান, “আজ চূড়ান্ত শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রতিপক্ষের কেউ উপস্থিত হননি। আমরা বাকি যুক্তি উপস্থাপন করেছি এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ভিত্তিতে কিছু নজির পেশ করেছি। এখন মাননীয় বিচারক যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমরা তা মেনে নেব।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মাজগাঁও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২০২২ সালে দায়ের হওয়া মানহানি মামলায় রাউতকে দোষী সাব্যস্ত করে ১৫ দিনের কারাদণ্ড এবং ২৫,০০০ টাকা জরিমানা করে। পরে তিনি আদালতে আবেদন জানালে তাঁর জেল-সাজা স্থগিত করা হয় এবং আপিল করার সুযোগ দিয়ে জামিন মঞ্জুর করা হয়।
মেধা সোমাইয়ার আইনজীবী বিবেকানন্দ গুপ্তা জানিয়েছিলেন, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় রাউতকে দোষী সাব্যস্ত করে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ২৫,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে।
দুই বছর আগে দায়ের হওয়া এই মানহানি মামলার সূত্রপাত রাউতের করা একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে। তিনি মিরা রোড (ঠানে)-এ একটি শৌচালয় নির্মাণ প্রকল্পে ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন, যা সোমাইয়া দম্পতির পরিচালিত একটি এনজিওর সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছিলেন। তবে অভিযোগের পক্ষে প্রয়োজনীয় নথি তিনি আদালতে পেশ করতে পারেননি।
মুম্বইয়ের রুইয়া কলেজের জৈব রসায়নের অধ্যাপক মেধা সোমাইয়া তাঁর ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে “মানহানিকর অভিযোগ”-এর জেরে রাউতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সোমাইয়া দম্পতি প্রথমে মুলুন্ড থানায় অভিযোগ দায়ের করেন, পরে মাজগাঁও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মানহানি মামলা করেন। তাঁদের দাবি, “এক টাকাও দুর্নীতি হয়নি।”
দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর রাউত দাবি করেন, তিনি সরকারি নথির ভিত্তিতে প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন তুলেছিলেন মাত্র। “আমি কোথায় মানহানি করেছি? এটা আমাকে জেলে পাঠানোর একটি চক্রান্ত,” মন্তব্য করেন তিনি।
রাউতের দণ্ডের পর এনসিপি (এসপি)-র কার্যনির্বাহী সভাপতি সুপ্রিয়া সুলে এবং শিবসেনা (ইউবিটি)-র উপনেত্রী সুষমা অন্ধারে এই মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করেন।
অন্যদিকে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মেধা সোমাইয়া বলেন, “আমি একজন সাধারণ গৃহবধূ, সমাজসেবা ও শিক্ষামূলক কাজে যুক্ত। কিন্তু আমার পরিবারের ক্ষতি করার চেষ্টা হলে আমি লড়াই করব। আদালতের রায়ে আমি সন্তুষ্ট। এতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ করতে সাহস পাবে না।”

