ইম্ফল, ১৭ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে মণিপুর পুলিশ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নাগা-অধ্যুষিত উখরুল জেলা থেকে কুকি সম্প্রদায়ের ৫১ জন ছাত্রছাত্রীকে সরিয়ে নিয়ে গেছে। মঙ্গলবার এক পুলিশ আধিকারিক এ তথ্য জানান।
৭ ফেব্রুয়ারি থেকে উখরুল জেলায় তাংখুল নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। জেলার লিতান সারেইখং গ্রামে সংঘর্ষে ৩০টিরও বেশি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। উখরুল জেলার সীমানা নাগাল্যান্ড ও মায়ানমারের সঙ্গে যুক্ত।
ইম্ফলের এক পুলিশ আধিকারিক জানান, উখরুল জেলার রামভা এলাকার জওহর নবোদয় বিদ্যালয় (জেএনভি) থেকে ৫১ জন কুকি ছাত্রছাত্রীকে নিরাপদে সরিয়ে সাইকুল থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে তাঁদের জওহর নবোদয় বিদ্যালয় কংপোকপি-এ স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
পুলিশের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ২০ জন ছাত্রী ও ৩১ জন ছাত্র রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে ১৮ জনের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার কেন্দ্র জেএনভি কাংপোকপিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি রামভা জেএনভি-র কুকি সম্প্রদায়ভুক্ত অন্যান্য পড়ুয়াদেরও সতর্কতামূলকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় স্থানীয় কিছু বাসিন্দা প্রথমে ছাত্রছাত্রীদের দুষ্কৃতী ভেবে ভুল করেন। তবে বিভিন্ন স্থানীয় সংগঠনের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। শাংশাক, রামভা, শোকভাও, টি এম কাসোম ও এস লাহো এলাকায় গ্রামবাসীদের বোঝানোর মাধ্যমে লিতান থানায় নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মণিপুর পুলিশ সকল সম্প্রদায়কে সংযম বজায় রাখার এবং গুজব রটানো থেকে বিরত থাকার আবেদন জানিয়েছে।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি লিতান গ্রামে তাংখুল নাগা সম্প্রদায়ের এক সদস্যের ওপর হামলার অভিযোগের পর থেকেই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে গত সপ্তাহ থেকে ইম্ফল-উখরুল সড়কে যান চলাচল, বিশেষত গণপরিবহণ পরিষেবা, মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষণ দেখা দেওয়ায় রাজ্য সরকার উখরুল জেলা এবং কামজং ও কাংপোকপি জেলার কিছু অংশে জারি থাকা পাঁচ দিনের ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। এছাড়া ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস), ২০২৩-এর ১৬৩ ধারায় জারি নিষেধাজ্ঞাও গত সপ্তাহে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মণিপুরের উপমুখ্যমন্ত্রী লসী দিখো, যিনি নিজেও নাগা নেতা, বলেন রাজ্য সরকার শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি ক্রীড়া ও যুব কার্যক্রমের মাধ্যমে অঞ্চলে ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টাও চলছে।

