সংবিধান সংস্কার বিতর্কে শপথ নিল জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সাংসদরা

ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনে শপথ গ্রহণ করেছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

দেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান।

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় এক দৈনিক–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান–এর সঙ্গে পরামর্শ করে শপথের দুটি বাক্য পাঠ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) ছয়জন সংসদ সদস্য শপথ গ্রহণের সময় কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না।

শপথপত্রে স্বাক্ষর পর্ব শেষ হওয়ার পর সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও দ্বিতীয়বার শপথ নেন বলে জানা গেছে। টেলিভিশনে সম্প্রচারিত দৃশ্যে দেখা যায়, দ্বিতীয় শপথের সময় স্বতন্ত্র সাংসদ রুমিন ফারহানা এবং বিএনপির ইশরাক হোসেন কক্ষ ত্যাগ করেন।

সংবিধান সংস্কার পরিষদে অংশগ্রহণ নিয়ে চলমান রাজনৈতিক আলোচনা ও মতভেদের প্রেক্ষাপটেই জাতীয় সংসদ ভবনে এই শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে দিনের শুরুতে ১১-দলীয় জোটের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা—যাদের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) রয়েছে—সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন। বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তারা এই অবস্থান নেন বলে জানা যায়।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন।

শপথ অনুষ্ঠানের শুরুতে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর নির্দেশে বিএনপির নবনির্বাচিত সব সংসদ সদস্যকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের ফরমে স্বাক্ষর না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কারণ তারা ওই পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হননি।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের কেউই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত নই। সংসদে বিষয়টি সাংবিধানিকভাবে গৃহীত হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।”

এদিকে, ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত হচ্ছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা হস্তান্তর পর্বে দেশে অস্থিরতা ও রাজনৈতিক সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Reply