ইউপি বিধানসভায় তুমুল বিক্ষোভ: এমজিএনরেগা ইস্যুতে কংগ্রেসের ঘেরাও, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সরব এসপি

লখনউ, ১৭ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): উত্তর প্রদেশ বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শুরু হতেই বিরোধী শিবিরের জোরালো বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে অধিবেশন কক্ষ। জাতীয় স্তরে ইন্ডিয়া জোটের শরিক হলেও রাজ্যে ভিন্ন ভিন্ন ইস্যুতে সরব হয়েছে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি (এসপি)।

একদিকে কংগ্রেস বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন (এমজিএনরেগা) প্রকল্পের বাস্তবায়নে অনিয়ম ও মজুরি বকেয়া থাকার অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে এসপি নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে সরব হয়েছে।

মঙ্গলবার এমজিএনরেগা রক্ষার দাবিতে বিধানসভা ভবনের বাইরে ‘বিধানসভা ঘেরাও’-এর ডাক দিয়েছে কংগ্রেস। দলের দাবি, বহু শ্রমিক এখনও মজুরি পাননি এবং প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যকেই খর্ব করা হচ্ছে।

উত্তর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অজয় রায় বলেন, “এমজিএনরেগা শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি, প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ধ্বংস করা—এসবের প্রতিবাদেই আমাদের এই ঘেরাও কর্মসূচি। ইউপিএ সরকার মহাত্মা গান্ধীর নামে এই আইন এনেছিল, যাতে গরিব মানুষ বছরে ১০০ দিনের কাজের নিশ্চয়তা পায়। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই অধিকার কেড়ে নিচ্ছে।”

কংগ্রেস সাংসদ কিশোরী লাল শর্মা জানান, বিভিন্ন জেলা থেকে কর্মীরা লখনউতে আসছেন ‘এমজিএনরেগা বাঁচাও’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে। তিনি বলেন, “গণতন্ত্রে প্রতিবাদ করার অধিকার আমাদের আছে। সরকারকে সমালোচনার মুখোমুখি হতেই হবে।”

অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক অবিনাশ পাণ্ডে দাবি করেন, গত ৪০ দিন ধরে রাজ্যজুড়ে চৌপাল ও বিক্ষোভের মাধ্যমে এমজিএনরেগা ইস্যুতে জনমত গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি বলেন, “রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও এমজিএনরেগা সংক্রান্ত পরিবর্তনের সমালোচনা করেছেন। গরিবদের অধিকার ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”

অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টি তাদের প্রতিবাদ কেন্দ্রীভূত করেছে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা (এসআইআর) প্রক্রিয়াকে ঘিরে। দলের অভিযোগ, ‘ফর্ম ৭’-এর অপব্যবহার করে দরিদ্র, দলিত ও আদিবাসী (পিডিএ) সম্প্রদায়ের ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।

এসপি বিধায়ক অনিল প্রধান বলেন, “যখন ওভার-ম্যাপিং হয়ে গিয়েছে এবং নাম যাচাই সম্পন্ন হয়েছে, তখন ফর্ম ৭ ব্যবহারের উদ্দেশ্য কী? সারা উত্তর প্রদেশে বিজেপি কর্মীরা এই ফর্মের অপব্যবহার করছেন।” তিনি আরও জানান, দলের জাতীয় সভাপতি অখিলেশ যাদব বিষয়টি একাধিকবার নির্বাচন কমিশনের সামনে তুলেছেন, কিন্তু এখনও সন্তোষজনক জবাব মেলেনি।

আরেক এসপি বিধায়ক সচিন যাদব বলেন, “ফর্ম ৭-এর অপব্যবহার বন্ধের দাবিতে আমরা নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি জমা দেব। বিভিন্ন এলাকা থেকে পিডিএ সম্প্রদায়ের ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ আসছে।”

উল্লেখ্য, জাতীয় স্তরে ইন্ডিয়া জোটের শরিক হলেও উত্তর প্রদেশে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি পৃথক ইস্যুতে আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছে, যা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Reply