আগরতলা, ১৬ ফেব্রুয়ারী : জলের অপর নাম জীবন হলেও বাস্তবে সেই জলই এখন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কৈলাসহর-এর হীরাছড়া এলাকায়। টানা ছয় মাস ধরে তীব্র পানীয় জল সংকটে ভুগছেন হীরাছড়া এডিসি ভিলেজ কমিটির বাসিন্দারা। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও কোনো স্থায়ী সমাধান না পাওয়ায় আহ ক্ষোভে ফেটে পড়ে এলাকাবাসী। কলসি ও বালতি হাতে নিয়ে পথ অবরোধে নামেন তাঁরা।
জানা গেছে, কৈলাসহরের গৌরনগর ব্লক-এর অধীন হীরাছড়া এডিসি ভিলেজ কমিটির ১, ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সবচেয়ে বেশি জলসংকট দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এলাকার সব পুকুর ও কুয়ো শুকিয়ে গেছে। পানীয় জলের কোনো উৎস না থাকায় বাধ্য হয়ে ড্রেনের নোংরা জল ব্যবহার করতে হচ্ছে, যার ফলে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন জলবাহিত রোগ।
অভিযোগ আরও, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি ওয়াটার পাম্প থাকলেও গত ছয় মাস ধরে সেটি বিকল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্থানীয় ভিলেজ কমিটি ও ডিডব্লিউএস দপ্তর-কে বারবার জানানো হলেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এদিন দুপুর ১২টা নাগাদ হীরাছড়া ভিলেজ কমিটির অফিসে গিয়ে বাসিন্দারা দেখেন, গেটে তালা ঝুলছে। এই ঘটনায় জনতার ক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এরপরই বাঁশ বেঁধে দুটি জায়গায় পথ অবরোধ করা হয়। পুরুষদের পাশাপাশি মহিলারাও কলসি-বালতি নিয়ে রাস্তায় বসে পড়েন। অবরোধের ফলে রাস্তার দু’পাশে বহু যানবাহন আটকে পড়ে এবং যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়।
দুপুর দু’টা থেকে অবরোধ শুরু হলেও খবর লেখা পর্যন্ত, অর্থাৎ বিকাল তিনটা নাগাদও ঘটনাস্থলে কোনো প্রশাসনিক আধিকারিক পৌঁছাননি বলে অভিযোগ। প্রশাসনের এই উদাসীনতায় ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা হীরাছড়া এলাকা।
এলাকাবাসীর একটাই দাবি, অবিলম্বে বিকল্প ব্যবস্থা করে পানীয় জল সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে। এখন দেখার, প্রশাসনের কবে ঘুম ভাঙে এবং হীরাছড়াবাসী কবে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পান।

