জনজাতিদের জন্য কে কাজ করছে, তাদের জন্য কে কথা বলছে তা বুঝতে হবে: মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৫ ফেব্রুয়ারি: উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে জিএসডিপি ও মাথা পিছু গড় আয়ের ক্ষেত্রে ত্রিপুরা রাজ্য দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। জনজাতিদের জন্য কে কাজ করছে, তাদের জন্য কে কথা বলছে তা বুঝতে হবে। আজ মহারাণী তুলসীবতী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ষষ্ট বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় আগরতলা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী টাউন হলে। প্রদীপ প্রজ্জলনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের সুচনা করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা। 

মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার গঠনের পর থেকেই জনজাতি সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন ও মর্যাদা রক্ষায় একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। জনজাতি সমাজপতিদের জন্য সম্মানিক ভাতা চালু করা হয়েছে, যাতে তাঁদের সামাজিক নেতৃত্ব ও ঐতিহ্যগত ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া যায়। সরকার দাবি করছে, জনজাতিদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও পরম্পরা সংরক্ষণে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে রাজ্যে বসবাসকারী ব্রু-রিয়াং শরণার্থীদের দুর্বিষহ জীবনের অবসান ঘটিয়ে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। রাজ্যের ১২টি স্থানে তাদের স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধু বাসস্থান নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানীয় জল, রেশন ও জীবিকার সুযোগ-সুবিধাও নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা মর্যাদাপূর্ণভাবে জীবনযাপন করতে পারেন।
সরকারের বক্তব্য, জনজাতি এলাকার শিক্ষার হার ও পরীক্ষার ফলাফলেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্রেও জনজাতি ছেলে-মেয়েরা সাফল্য অর্জন করছে। সরকারের লক্ষ্য, সকল সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা। তবে কিছু মহল ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।

১২৩টি এডিসি ভিলেজ গঠন নিয়ে আইনি জটিলতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিষয়টি আইনসম্মত নয় বলে জনজাতি কল্যাণ দপ্তর মত প্রকাশ করেছে। এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে।

এছাড়াও জনজাতি যুব সমাজকে মাদকাসক্তির দিকে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে শিরায় মাদক গ্রহণের ফলে এইডসসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। এ বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা ও সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন বলে দাবি করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, জনজাতি এলাকার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে নির্ধারিত বাজেট বরাদ্দের চেয়েও বেশি অর্থ উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হয়েছে। অবকাঠামো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে বিভাজনের রাজনীতি রাজ্যের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সত্তরের দশকে অস্থিরতার পরিবেশে শিক্ষা ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়েছিল, যার প্রভাব বহু বছর ধরে পড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, জনজাতিদের দীর্ঘদিন ধরে কেবল ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার মানেই উন্নয়ন। তাই জনগণের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার, দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। 

Leave a Reply